১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:১২

খুবি ক্যাম্পাসের পাশে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের লাশ, পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

নিহত আজমল হোসেন।  © টিডিসি ছবি

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) খানজাহান আলী হলের (খাজা হল) বিপরীতে মসজিদ গলিতে একটি ভবনের চতুর্থ তলা থেকে পড়ে আজমল হোসেন নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। চুরির সন্দেহে তাকে মারধরের পর ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহত আজমল নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাজা হলের বিপরীতে মসজিদ গলির একটি পাঁচতলা ভবনে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, চোর সন্দেহে মারধরের একপর্যায়ে আজমল ভবনের ছাদ থেকে নিচে পড়ে আহত হন। পরে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনাস্থলে থাকা স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রাতের দিকে চোর ধরা পড়েছে এমন খবর শুনে তারা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে আজমলকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন তারা। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং দুই পা বাঁকা হয়ে যায়। পরে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

গলির সামনের দোকানদার বলেন, চোর ধরার খবর শুনে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন, একজন ব্যক্তি ভবন থেকে পড়ে নিচে পড়ে আছেন এবং তার পায়ে আঘাত লেগেছে। পরে তিনি দোকানে ফিরে আসেন।

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি আজমলকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পারেন, চোর সন্দেহে তাকে মারধর করা হয়েছিল এবং বিচার-সালিশের একপর্যায়ে তিনি ছাদ থেকে পড়ে যান। তার শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন এবং মাথার চুলের একটি অংশ কাটা অবস্থায় দেখা যায়।

নিহত আজমল হোসেনের বাবা কুতুবউদ্দিন অভিযোগ করেন, চুরির অপবাদ দিয়ে তার ছেলেকে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, আজমলের রুমমেটরা তার কাছে ফোন করে এক লাখ টাকা দাবি করেন এবং টাকা দিলে বিষয়টি মীমাংসা হবে বলে জানান। এরপর ছেলের ফোন থেকে তাকে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসতে বলা হয়। তবে প্রায় এক ঘণ্টা পর থেকে আর ফোনে যোগাযোগ করা যায়নি এবং পরে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তখনই তিনি আশঙ্কা করেন, তার ছেলেকে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে।

কুতুবউদ্দিন বলেন, ‘আমার সন্তান তো চলেই গেছে। একটা ব্যক্তি ভাত চেয়ে বা চুরি করে খেতে পারে না। যে ১০০–২০০ টাকা নিতে পারে না, তাকে এই অপবাদ দিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে।’

হরিণটানা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইকবাল হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উপস্থিত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। প্রাথমিক তদন্তে চোর সন্দেহে আজমলকে মারধরের তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে কাটা চুল, লাঠি, কিছু বই এবং ধস্তাধস্তির আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আজমল হোসেনের বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার বড়শুলুয়া গ্রামে। তার বাবার নাম কুতুবউদ্দিন। 

ইকবাল হোসেন বলেন, মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে পুলিশ বিস্তারিত তদন্ত করছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে।