ইবিতে লোহার পাত চুরি, আটক ভ্যানচালককে ৪ লাখ টাকার ভিন্ন মামলায় কোর্টে চালান
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ডরমেটরি থেকে পিতল ও লোহার পাত চুরি করতে এসে আটক হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ভ্যানচালক। তবে থানা-হাজত থেকে তাকে ক্যাম্পাসের ভিন্ন একটি ‘৪ লাখ টাকা চুরি’র মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। অভিযুক্ত ভ্যানচালক জসিম হোসেন (২৮) বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আব্দালপুর গ্রামের মজিদের ছেলে।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এলাকা থেকে জসিমকে আটক করেন নিরাপত্তাকর্মীরা। পরে স্বীকারোক্তি সাপেক্ষে তাকে ইবি থানায় হস্তান্তর করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমেটরি-২ থেকে ধরা পড়ার দুই দিন আগে আনুমানিক ৪-৫ কেজি পিতল ও লোহার পাত চুরি হয়। সিসিটিভি ফুটেজে এক ভ্যানচালককে তা নিয়ে যেতে দেখে তার গতিবিধি নজরে রাখা হচ্ছিল। আটকের পর জসিম প্রক্টর ও সাংবাদিকদের কাছে নিজের অভাবের কথা স্বীকার করে ক্ষমা চান।
এদিকে গত বছরের ১৫ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ভবনসংলগ্ন এলাকায় ‘কামাল বুকস অ্যান্ড স্টেশনারি ও বিকাশের দোকানের’ সামনে থেকে ৪ লাখ টাকা ও ২টি মোবাইল ফোন চুরির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় দোকানদার কামাল উদ্দিন ৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করে মামলা (৩৭৯ ধারা) করেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্ত করছেন ইবি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহফুজ আলী।
সম্প্রতি লোহার পাত চুরির ঘটনায় আটক জসিমকে উক্ত ৪ লাখ টাকা চুরি মামলার অজ্ঞাতনামা আসামি দেখিয়ে কুষ্টিয়া আদালতে পাঠায় ইবি থানা পুলিশ। পুলিশের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে প্রায়ই চুরি করেন এবং জামিন পেলে তদন্তে ব্যাঘাত ঘটাতে পারেন।
তবে মামলার বাদী কামাল উদ্দিন বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার মামলায় এই ছেলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমি তিনজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছি। কেন এই ছেলেকে আমার মামলায় জেলে পাঠানো হলো জানি না, আমি পুলিশ প্রশাসনের সাথে কথা বলব।’
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শামসুল আলম বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে জেনেছি মামলার বাদীও আসামির ব্যাপারে কিছু জানেন না। আগামী বুধবার শুনানির সময় বিষয়টি আদালতে তুলে ধরে জামিনের আবেদন করা হবে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইবি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহফুজ আলী বলেন, ‘মামলাটি এখনও তদন্তাধীন। তদন্তে যদি ওই ভ্যানচালকের কোনো সম্পৃক্ততা না পাওয়া যায়, তবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন থেকে তার নাম বাদ দেওয়া হবে।’