১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:০৫

‎জবি ভিসির পিএসের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ

উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মুহাম্মদ রাশেদ কাজী  © টিডিসি সম্পাদিত ছবি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মুহাম্মদ রাশেদ কাজীর বিরুদ্ধে সাংবাদিক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক ও অসহযোগিতামূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও প্রশাসনিক কাজে যোগাযোগের ক্ষেত্রে তাঁর কাছ থেকে সহযোগিতা না পাওয়া যায় না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উপাচার্যের পিএস যেন দপ্তরের প্রধান উপাচার্যের (ভিসি) ভূমিকায় পালন করেন! 

‎খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা, বক্তব্য নেওয়া কিংবা কোনো প্রশাসনিক বিষয়ে যোগাযোগ করতে গেলেও অনেক সময় পিএসের অনুমতির ওপর নির্ভর করতে হয়। এমনকি ভিসির সঙ্গে শিডিউল নিতে গেলেও নানা হয়রানির শিকার হতে হয় শিক্ষার্থীদের। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রমে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

‎বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক সাংবাদিক অভিযোগ জানান, উপাচার্যের বক্তব্য নেওয়া বা সাক্ষাৎকারের জন্য যোগাযোগ করলে অনেক ক্ষেত্রেই তাঁদের সরাসরি উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয় না। রাশেদ কাজী অনেক ক্ষেত্রে রূঢ় ও অসহযোগিতামূলক আচরণ করেন। নিউজে উপাচার্যের বক্তব্য নিতে সিডিউল পেতে হয়। সিডিউলে ৫-৭ দিন পর দেওয়া হয় সময়। একইসাথে অনেকক্ষেত্রে অপেক্ষা করিয়েও সাক্ষাতের ব্যবস্থা না করার মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন কয়েকজন সাংবাদিক।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জবি ক্যাম্পাস সাংবাদিক বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ে দ্রুত উপাচার্যের বক্তব্য প্রয়োজন হলেও অনেক সময় পিএসের মাধ্যমে সময় নিতে গিয়ে বিলম্ব হয়। এতে সময়মতো সংবাদ প্রকাশ করা কঠিন হয়ে পড়ে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক সাংবাদিকের অভিযোগ করেন , উপাচার্যের বক্তব্য বা সাক্ষাৎকারের জন্য সিডিউল চাইলে অনেক সময় পাঁচ থেকে সাত দিন পরের সময় দেওয়া হয়। এমনকি নির্ধারিত সময়ের জন্য অপেক্ষা করেও সাক্ষাৎ না পাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।

শুধু সাধারণ শিক্ষাথী ও সাংবাদিক নয়, ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরসহ অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরাও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। ‎এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের কর্মী বলেন, “আমাদের ভিসি স্যার যতটুকু মানবিক এবং শিক্ষার্থীবান্ধব, ‎তাঁর পিএস রাশেদের আচরণ ততোটাই উগ্র। তিনি কেন জানি কাউকে ন্যূনতম সম্মান দেন না। ভিসি স্যার এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে তিনি দূরত্ব সৃষ্টি করতেছেন প্রতিনিয়ত। একদিন তিনি সবার সামনে আমাকে হেয় করে বলেন, ‘এটা ভিসির দপ্তর! ইসলামিক স্টাডিজ ডিপার্টমেন্টের অফিস না।’ এ ধরণের কথা তিনি বলার অধিকার রাখেন?”

এদিকে সম্প্রতি উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাতের সময়সূচি নিতে গিয়ে জকসু প্রতিনিধিরাও অসহযোগিতা ও রূঢ় আচরণের মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ করেছেন জকসুর হল সংসদের সম্পাদক ফাতেমা তুজ জোহরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ভিসির সাক্ষাতের সময়সূচি নিতে গিয়ে জকসু প্রতিনিধিদের অসহযোগিতা ও রূঢ় আচরণের মুখে পড়তে হচ্ছে। অথচ দলীয় পরিচয়ে পরিচিত কেউ গেলে অপেক্ষা ছাড়াই সাক্ষাতের সুযোগ পান—এমন অভিজ্ঞতা আমাদের হয়েছে।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ জিহাদ বলেন, বিভাগের শ্রেণিকক্ষ সংকট ও সংস্কারসংক্রান্ত বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও পিএসের কাছ থেকে সহযোগিতা পাননি। বিভাগের চেয়ারম্যানকে সঙ্গে নিয়ে আসার কথা বলার পর সিডিউলের জন্য আবেদন রাখা হলেও পরবর্তী সময়ে আর কোনো যোগাযোগ করা হয়নি।‎

‎নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে সামাজিক সংগঠনের একজন শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের উন্নয়নমূলক প্রোগ্রামের জন্য সময় নিতে চাইলে ৫ পাঁচদিন পর সিডিউল দেওয়া হয়। অথচ আমাদের পরে এসেও অনেক ছাত্র নেতারা ভিসি স্যারের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের সুযোগ পেয়ে যায়।

‎বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকও নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশ বা সাক্ষাতের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা বেড়েছে। তাঁদের মতে, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের যোগাযোগ সহজ ও স্বাভাবিক হওয়া উচিত।

অভিযোগের বিষয়ে উপাচার্যের পিএস মুহাম্মদ রাশেদ কাজী বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কোনো কথা বলতে চাই না। অভিযোগর বিষয়ে আমি একটি কথাও বলতে চাই না।’

এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দিন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি উড়ো উড়ো শুনেছি। আমি স্পেসিফিকভাবে কারো কাছ থেকে অভিযোগ পাইনি। অভিযোগের বিষয়গুলো আমি খতিয়ে দেখবো।’