শিক্ষকতা পেশাকে অর্থনৈতিক মাপকাঠিতে বিবেচনা না করার আহ্বান ইবি উপাচার্যের
শিক্ষকতা পেশাকে অর্থনৈতিক মাপকাঠিতে বিবেচনা না করার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘শিক্ষকদের এই পেশায় আসতে হবে নিবেদিত প্রাণ হয়ে। অর্থনৈতিক বিবেচনায় এই পেশাকে যদি বিবেচনা করা হয়, তাহলে সেখানে ভালো শিক্ষক এবং ভালো শিক্ষার্থী গড়ে তোলা সম্ভব নয়।’
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব ইসলামিক এডুকেশন এন্ড রিসার্চ (আইআইইআর) এর বিএড, এমএড ও বিএমএড এর অরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম-২০২৬ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইবি উপাচার্য বলেন, ‘আপনি প্রশ্ন করতে পারেন যে, এই পেশায় নিয়োজিত থেকে যদি দৈনন্দিন জীবনে দারিদ্রতার সীমার নিচে বসবাস করে করতে হয়, তাহলে কেন, কিভাবে শিক্ষার্থীদেরকে মানসম্মত শিক্ষা এবং কর্মমুখী শিক্ষা গড়ে তোলা কিভাবে সম্ভব। কিন্তু আমি পাল্টা আপনাকে প্রশ্ন করতে পারি যে বাংলাদেশের মতো একটি দরিদ্র দেশে যে লোকটি কৃষি কাজ করে, ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করে, শ্রমিক হিসেবে কাজ করে, তারাও কিন্তু এ দেশের মানুষ আপনার-আমার চাইতে অনেক বেশি পরিশ্রম করে। তারাও আপনার মতো ভাবলে দেশ চলতো না।’
আরও দেখুন: ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৯ দিনে দুই শিশুসহ ৩ জনের মৃত্যু
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা শিক্ষকতার মতো একটি মহান পেশায় আছেন। আপনি যদি বিবেচনা করেন যে, পেশাগত জীবনে দায়িত্ব পালন করার ক্ষেত্রে প্রতি মাসে যে বেতন-ভাতাটুকু পান তা অপ্রতুল এবং এই বিবেচনা করে যদি আপনি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদেরকে পাঠদানের জন্য ঢুকে থাকেন, তাহলে সেই শিক্ষা আর যাই হোক, দক্ষ এবং যোগ্য নাগরিক তৈরি করা সম্ভব নয়। আমি মনে করি, শিক্ষকতা পেশায় আসা উচিত তাদেরই যারা শিক্ষকতা পেশাটাকে নিজের পছন্দ রূপেই গ্রহণ করবেন।’
এসময় ইবি উপাচার্য ইন্সটিটিউটের নবীনদের জন্য নিয়মিত ক্লাস করা, নকল করে পাশ করার মানসিকতা পরিহার করা এবং প্রশিক্ষণটি নিজ কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগ করার মানসিকতা নিয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার বার্তা দেন। অন্যথায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান ইবি উপাচার্য।