শিক্ষার্থীদের নয়, ছাত্রদল নেতাকর্মীদের রাকিবকে অনুসরণ করতে বলেছি: জবি উপাচার্য
ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কের বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন। তিনি জানান, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের তিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের মতো কাজপাগল ও কর্মঠ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে সব শিক্ষার্থীকে রাকিবকে অনুসরণ করার কথা তিনি বলেননি।
আজ বৃহস্পতিবার রাতে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এসব কথা বলেন তিনি।
উপাচার্য বলেন, ‘আমি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলেছি যে যারা ছাত্রদল করে তারা যেন রাকিবের মতো কাজপাগল হয় এবং কাজ করে। আমি সেটা বলেছি। এর অর্থ এই না যে আমি সব শিক্ষার্থীদেরকে বলেছি যে রাকিবকে অনুসরণ কর।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বক্তব্যকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি দেখলাম যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এইটা নিয়ে অনেক ধরনের নেগেটিভ সেন্স শো করা হচ্ছে। এটা অনেকে দেখলাম আবার আমাদের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর মিজানুর রহমানের সাথেও আমাকে তুলনা করেছে। এটা আসলে কাম্য নয়। একজনের বক্তব্যকে বুঝতে হলে পুরো বক্তব্যটা শোনা দরকার।’
তিনি বলেন, ‘ছাত্রদলের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী চিফ গেস্ট ছিলেন। আমিও সেখানেই ছিলাম। তো আমি খুব সিম্পল, খুব সহজভাবেই যে কথাটা সেখানে বলেছি— আমি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলেছি। যারা ছাত্রদল করে, আমি বলেছি যে আমি যতদূর জানি, সেন্ট্রাল প্রেসিডেন্ট রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে আমি যতদূর চিনি, সে খুবই কর্মঠ। কাজের ব্যাপারে সে কখনোই কোনো অবহেলা করেছে, আমি সেটা দেখিনি।’
রাকিবের কাজের প্রতি নিষ্ঠার বিষয়টি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধারণ করার আহ্বান জানিয়ে উপাচার্য বলেন, ‘আমি কথাটাই সেখানে বলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি যে তার মতো যেন সবাই কাজ করে। এটা জাস্ট তার যে ডেডিকেশন, এই ডেডিকেশনটা যেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ধারণ করে। আমি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সেই আহ্বানটুকু জানিয়েছি। এটা আসলে দূষণীয় কিছু কি না, আমি সেটা জানি না। এটা যারা আমার পুরো বক্তব্যটি শুনেছে, তারাই বিশ্লেষণ করবে।’
অন্যের ভালো গুণ অনুসরণ করা নিয়ে উদাহরণ দিয়ে জবি উপাচার্য বলেন, ‘আমরা তো অনেকেরই অনেক সময় এক্সাম্পল দেই যে অমুকের মতো হওয়া উচিত। অমুকের মতো হওয়া উচিত। মানে তার ওই কাজটা আমাদের জন্য অনুকরণীয়। তো আমি সেটা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বলেছি যে যারা ছাত্রদল করে তারা যেন রাকিবের মতো কাজপাগল হয় এবং কাজ করে। আমি সেটা বলেছি। এর অর্থ এই না যে আমি সব শিক্ষার্থীদেরকে বলেছি যে রাকিবকে অনুসরণ কর। বিষয়টার স্পিরিট সেটা ছিল না। এইটা নিয়ে একচুয়ালি আসলে ভুল বোঝার কোনো অবকাশ নাই।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বক্তব্যকে দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপনের সমালোচনা করে উপাচার্য বলেন, ‘আমি দেখলাম যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এইটা নিয়ে অনেক ধরনের নেগেটিভ শো করা হচ্ছে যে দলীয়— মানে এটা একটা ইঙ্গিত আমি দিয়েছি অথবা দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এটা অনেকে দেখলাম। আবার আমাদের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর মিজানুর রহমানের সাথেও আমাকে তুলনা করেছে। এটা তো আসলে কাম্য নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি আশা করি যে যারা এটা করছে তারা আমার এই বক্তব্যের মাধ্যমে ক্লিয়ার হবে যে এটা নিয়ে একচুয়ালি বিতর্কিত কিছু নেই। এবং যেকোনো একজন ব্যক্তির ব্যক্তি চরিত্র হরণের জন্য ট্যাগ দিয়ে অথবা বক্তব্যকে বিকৃত করে উপস্থাপন করা—যে কারোই হোক—সেটা অবশ্যই উচিত না।’
অন্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ভালো গুণও অনুসরণ করা যেতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের ছাত্রদলের একজন প্রেসিডেন্ট আছে, তার একটা ভালো গুণ আছে। সেটা যেমন আমাদের জন্য অনুসরণীয়। আমাদের অন্য দলের ছাত্রশিবিরের যদি প্রেসিডেন্টের ভালো গুণ থাকে, সেটা কি আরেকজন অনুসরণ করতে পারবে না? নাকি সে তখন জামাত হয়ে যাবে?’
তিনি আরও বলেন, ‘তো জামাতে ইসলামী ইসলামের কথা বলেন। তো আমি মুসলমান, আমিও ইসলামের কথা বলি। তাহলে আমি ইসলামের কথা বললে আমি কি জামাতে ইসলামী হয়ে যাব? অন্যের মধ্যে যে গুণগুলো আছে, সে গুণটা যদি অনুকরণীয় হয়ে থাকে, তো সেটা আমরা সবাই একটু অনুসরণ করতে পারি। এটা নিয়ে তো বিতর্কিত কিছু নেই।’
সবাইকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশ গড়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে জবি উপাচার্য বলেন, ‘এটা নিয়ে যারা বিতর্ক করছে, আমি আশা করি যে তাদের উপলব্ধিতে সেটা হওয়া উচিত। কারণ আমরা সবাই মিলেই এই দেশকে করতে হবে। সবাই সবাইকে ধারণ করতে হবে।’
বক্তব্য বিকৃত করে কাউকে হেয় করার বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘একটি সামান্য কথা নিয়ে সেটাকে বিকৃত করে যদি একজনের বিরুদ্ধে আমরা উঠে-পড়ে থাকি, তো একচুয়ালি তো সবাইকে নিয়েই কাজ করতে হবে। আমাদের কাজের লোকের দরকার এবং এই ক্ষেত্রে সবাই সবাইকে সহযোগিতা করা উচিত।’
সমালোচনার ক্ষেত্রে গঠনমূলক পদ্ধতি অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মানুষ কাজ করতে গিয়ে অবশ্যই ত্রুটি হয়। তার একটা গঠনমূলক সমালোচনার সিস্টেম আছে। সেটা না করে কারো যদি চরিত্র হরণের জন্য উদ্দেশ্য করে সেটা প্রোপাগান্ডায় ছড়ানো হয় অথবা তার ব্যক্তি চরিত্র ধ্বংসের যদি অপচেষ্টা করা হয়, সেটা তো অবশ্যই কাম্য নয়।’