বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে প্রদর্শিত হচ্ছে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫টি উদ্ভাবনী গবেষণা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এ প্রদর্শিত হচ্ছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫টি উদ্ভাবনী গবেষণা।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নভোথিয়েটারে আজ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী এ মেলায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও উদ্ভাবকদের সঙ্গে অংশ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণা দলগুলো।
‘ইনোভেট টু মার্কেট’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ মেলার লক্ষ্য উদ্ভাবনকে নীতি সহায়তা, শিল্পখাত, বিনিয়োগ ও বাজার ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করা। একই সঙ্গে উদ্ভাবক, একাডেমিয়া ও শিল্পখাতের প্রতিনিধিদের এক প্ল্যাটফর্মে এনে নতুন ধারণাগুলোকে বাস্তব প্রয়োগ ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা।
আজ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে আগারগাঁওয়ের নভোথিয়েটারে আয়োজিত এ মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন বক্তার বক্তব্য ও উপস্থাপনায় ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা উঠে এসেছে। উপস্থাপিত বিষয়গুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এ সময় তিনি মেলার আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
তিন দিনব্যাপী চলমান এই মেলায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫টি উদ্ভাবনী গবেষণা প্রদর্শিত হচ্ছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এ এইচ এম কামাল বলেন, এবারই প্রথমবারের মতো জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে অংশগ্রহণ করছে। এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে উদ্ভাবনী ও গবেষণাভিত্তিক প্রকল্প আহ্বান করে নোটিশ প্রকাশ করা হয়। পরে জমা পড়া প্রকল্পগুলো সাক্ষাৎকার ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে নির্বাচন করা হয়েছে। এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মোট ১৫টি গবেষণা ও উদ্ভাবনী কাজ প্রদর্শন করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১৩টি গবেষণাপত্রভিত্তিক প্রকল্প এবং দুটি প্রদর্শনী রয়েছে। পাশাপাশি পোস্টার উপস্থাপনারও সুযোগ রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সবসময় তাঁদের কাজের স্বীকৃতি এবং তা বৃহত্তর পরিসরে উপস্থাপনের সুযোগ প্রত্যাশা করেন। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের সেই সুযোগ করে দেয় এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নত গবেষণা ও উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে উৎসাহ জোগায়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবনী কাজগুলো শুধু ক্যাম্পাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে সেগুলো জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি লাভ করবে এবং ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত পরিসরে কাজে লাগানো সম্ভব হবে।