জবিতে ধীরগতির ইন্টারনেটে ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ধীরগতির ইন্টারনেটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ওয়াই-ফাই সংযোগ দুর্বল ও বারবার বিচ্ছিন্ন হওয়ায় অনলাইন ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট, গবেষণা ও প্রয়োজনীয় ডিজিটাল সেবা ব্যবহারে সমস্যায় পড়ছেন তারা। এতে একাডেমিক কাজ চালিয়ে নিতে অনেক শিক্ষার্থীকে বাড়তি খরচ করে ব্যক্তিগত মোবাইল ডাটার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসের সব জায়গায় ইন্টারনেটের গতি এক নয়। কোথাও সংযোগ পাওয়া গেলেও অনেক স্থানে তা স্থিতিশীল নয়। ফলে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজে ব্যক্তিগত মোবাইল ডাটা ব্যবহার করতে হচ্ছে তাদের। এতে বাড়তি খরচের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অনলাইন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
বিশেষ করে বড় ফাইল ডাউনলোড, ই-মেইল আদান-প্রদান, অনলাইন ক্লাস, গবেষণার তথ্য সংগ্রহ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সময় সমস্যাটি বেশি প্রকট হয় বলে জানান শিক্ষার্থীরা।
আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তৌহিদুল ইসলাম ডালিম বলেন, পড়াশোনার অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ এখন অনলাইননির্ভর। কিন্তু প্রয়োজনের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াই-ফাইয়ের গতি কম থাকে। অনেক সময় সংযোগও পাওয়া যায় না। ফলে বাধ্য হয়ে ব্যক্তিগত ডাটা ব্যবহার করতে হয়।
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান বলেন, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় নেটওয়ার্কের মানের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। কোথাও তুলনামূলক ভালো সংযোগ পাওয়া গেলেও অনেক জায়গায় ধীরগতির ইন্টারনেটের কারণে স্বাভাবিক কাজ করাও কঠিন হয়ে পড়ে। দ্রুত সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।
ইতিহাস বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী হাবীব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন তথ্য ও একাডেমিক কার্যক্রমের জন্য অনলাইনের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু ইন্টারনেটের গতি কম থাকলে প্রয়োজনীয় কাজ সময়মতো করা যায় না। বিশেষ করে নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যাম্পাসে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা থাকা জরুরি।
উন্নয়নকাজ চলছে
নেটওয়ার্ক সমস্যা সমাধানে ক্যাম্পাসের নেটওয়ার্ক অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেল।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, ক্যাম্পাসের কিছু রাউটার ও অ্যাকসেস পয়েন্ট পরিবর্তনের কাজ চলমান। ব্র্যাকনেট ও বিডিরেনের সহায়তায় এসব কাজ করা হচ্ছে। তবে কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি।
তিনি বলেন, কাজগুলো পুরোপুরি কমপ্লিট হলেই ইন্টারনেটের গতির সমস্যা দূর হবে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে কাজ পুরোপুরি শেষ হবে।
তিনি আরও জানান, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ১০০টির বেশি অ্যাকসেস পয়েন্ট রয়েছে। এসব অ্যাকসেস পয়েন্ট পরিবর্তনের কাজ পর্যায়ক্রমে চলছে।
এর আগে চলতি বছরের ১৩ আগস্ট ইউজিসির হিট প্রকল্পের আওতায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের BdREN Upgradation ও Campus Network-এর চলমান কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট পরিদর্শন দল। এ সময় ক্যাম্পাসের নেটওয়ার্ক কাভারেজ বাড়ানো, প্রয়োজনীয় ডিভাইস স্থাপন ও কনফিগারেশন এবং নেটওয়ার্ক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়।
তবে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি নেটওয়ার্কের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, সক্ষমতা পর্যবেক্ষণ এবং ব্যবহারকারীর চাপ অনুযায়ী পর্যাপ্ত ব্যান্ডউইথ নিশ্চিত করা হবে। চলমান উন্নয়নকাজ দ্রুত শেষ করে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সব স্থানে স্থিতিশীল ও দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করার দাবি তাদের।