ভাইভার নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাব বাতিলের দাবিতে খুবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাবের প্রতিবাদে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা বুধবার রাতে হাদি চত্বরে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বরে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। সমাবেশে ভাইভা না মেধা, মেধা মেধা, কোটা গেছে যেই দিকে, ভাইভা যাবে সেই দিকে সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা।
সম্প্রতি ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিতে নিয়োগের জন্য পরীক্ষার মানবণ্টন (বিশেষ বিধান) বিধিমালা, ২০২৬ এর খসড়া অনুমোদন করেছে প্রশাসনিক উন্নয়ন-সংক্রান্ত সচিব কমিটি। প্রস্তাবিত বিধিমালায় ১১ ও ১২তম গ্রেডে ১০০ নম্বরের লিখিত ও ৫০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা, ১৩ থেকে ১৬তম গ্রেডে ৬০ নম্বরের লিখিত ও ৪০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা এবং ১৭ থেকে ২০তম গ্রেডে লিখিত ও মৌখিক উভয় পরীক্ষায় ২৫ নম্বর নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
একই সঙ্গে ১১-১২তম গ্রেডে লিখিত পরীক্ষার পাস নম্বর ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩৫ শতাংশ এবং ১৩-১৬তম গ্রেডে ৪০ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষায় অভিন্ন মানবণ্টন চালু এবং লিখিত পরীক্ষায় প্রক্সি, নকল ও জালিয়াতি ঠেকাতে এ ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে প্রস্তাবটি নিয়ে নিয়োগপ্রত্যার্থী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়লে নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের সুযোগ বাড়তে পারে।
সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে পড়াশোনা ও প্রস্তুতির মাধ্যমে লিখিত পরীক্ষায় ভালো করা প্রার্থীরা মৌখিক পরীক্ষায় কম নম্বর পেলে পিছিয়ে পড়তে পারেন। তাদের দাবি, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে লিখিত পরীক্ষার গুরুত্ব কমানো যাবে না।
আরও দেখুন: ক্যাশমেমো ছাড়া সার বিক্রি করায় দুই ডিলারকে ৪২ হাজার টাকা জরিমানা
চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘ভাইভার নম্বর বাড়িয়ে দিয়ে পরোক্ষভাবে এক ধরনের ‘নব্য কোটা’ তৈরি করা হচ্ছে। এতে মেধার চেয়ে অলিখিত প্রভাব বা স্বজনপ্রীতির সুযোগ বেশি থাকবে।’ তিনি প্রস্তাবটি পুনর্বিবেচনা করে বাতিলের দাবি জানান।
চতুর্থ বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী মারুফ মোল্লা বলেন, ‘লিখিত পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাওয়া প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষায় কম নম্বর দিয়ে পিছিয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তার ভাষ্য, এতে নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
এদিকে প্রস্তাবিত বিধিমালা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, ‘মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সুবিধা নেওয়ার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না।’
এর আগে প্রস্তাবিত পরিবর্তনের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভাইভার নম্বর বাড়ানোর বিষয়টিকে নব্য কোটা আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রস্তাবটি পুনর্বিবেচনা করে মেধাভিত্তিক, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান।