ইবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ: ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদল নেতা কর্তৃক ছাত্রশিবির নেতাকে থাপ্পড় মারার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রিপোর্ট জমা দিয়েছে গঠিত তদন্ত কমিটি। বহিরাগতদের অস্ত্র মহড়ায় জড়িতদের সনাক্তের বিষয়টি তদন্ত কমিটির এখতিয়ারে ছিল না। তবে সনাক্ত করে ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দেন কমিটি।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, তদন্ত কমিটি অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতার অবস্থান স্পষ্টকরণ, অভিযুক্তকে উদ্ধারে গিয়ে উত্তেজনা পরিস্থিতির মধ্যে উশৃংখলা সৃষ্টিকারী কয়েক জনের নাম, প্রধান ফটকে প্রবেশ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে বাকবিতন্ডায় জড়িতদের নাম ওঠে এসেছে। এছাড়া অস্ত্রধারীদের সনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং বহিরাগতদের কোনো ইন্ধন খতিয়ে দেখতে অধিকতর তদন্তের পরামর্শ দিয়েছে তদন্ত কমিটি।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ড. মোহাম্মদ সেলিম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৭২ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছিল। আমরা রাত ১ টা পর্যন্ত প্রতিবেদন লিখে নির্ধারিত সময়ে জমা দিয়েছি। এই দিনগুলো তদন্ত ছাড়া অন্য কাজ করতে পারেনি সদস্যরা। ক্যাম্পাস কেন্দ্রিক সামগ্রিক বিষয় তুলে আনার চেষ্টা করেছি। বাকিটা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিবেন।
গত শনিবার দুপুরে শহীদ জিয়াউর রহমান হলে ছাত্রদল নেতা আলিনূর রহমান বাঁধন কর্তৃক ছাত্রশিবির নেতা কাজী জুহায়েরকে থাপ্পড়ের ঘটনায় উত্তাল হয় ক্যাম্পাস। প্রথমে হলে হট্টগোলের পরে ছাত্রশিবির জিয়া মোড়ে এবং ছাত্রদল মেইন গেটে অবস্থান নেয়। এসময় উভয় দলের হাতে লাঠিসোঁটা দেখা যায়। এদিকে ছাত্রদলের মিছিলে আসা বহিরাগত অনেককে হাতে রামদা, কিরিচ, চাপাতি-সহ দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিতে দেখা যায়। গভীর রাত পর্যন্ত উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেটে পুলিশের অবস্থান দেখা যায়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা জোরদারে বহিরাগত প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছে ইবি প্রশাসন।
ঘটনা তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নির্দেশে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রশাসন। লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিমকে আহ্বায়ক এবং অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তফা আরীফ ও ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদকে সদস্য করে গঠিত এই কমিটিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। একই ঘটনায় হল কর্তৃপক্ষ এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এতে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেন কমিটি।