০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:০৯

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগে শিক্ষার্থীদের তালা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগে শিক্ষার্থীদের তালা  © টিডিসি সম্পাদিত

দ্রুত পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল প্রকাশ, তীব্র সেশনজট নিরসন সহ বিভাগের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সমস্যার সমাধান না করায় নানা কারণে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগে তালা ঝুলিয়েছে বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবনের চতুর্থ তলায় চারুকলা বিভাগে এই ঘটনা ঘটে। 

শিক্ষার্থীরা জানান, ইবির চারুকলা বিভাগে দীর্ঘদিন যাবৎ তীব্র সেশনজট বিরাজমান। অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের তুলনায় এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা এক থেকে দেড় বছরের তীব্র সেশনজটে ভুগছেন। দেড় মাস আগে বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের চতুর্থ বর্ষর দ্বিতীয় সেমিস্টারের ফরম ফিলাপ সম্পন্ন হলেও এখনো তারা পরীক্ষায় বসতে পারেনি। সেখানে অন্যান্য বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের অনার্স শেষ হয়ে গেছে এই বছরের শুরুর দিকেই। 

২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের তৃতীয় পর্ব প্রথম সেমিস্টার পরীক্ষার ৫ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো ফলাফল দেওয়া হয়নি। ফলে তারা তৃতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষায় বসতে পারছেন না।  বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগের অনেক একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের চতুর্থ বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের ক্লাস চলছে। একই অবস্থা ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদেরও। অন্যান্য অনেক বিভাগে ২০১৯-২০ সেশনের মাস্টার্স প্রায় শেষের দিকে হলেও এই বিভাগে সবেমাত্র মাস্টার্স প্রথম সেমিস্টারের ক্লাস শুরু হয়েছে। 

এছাড়া শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিভাগের ওয়াশরুমের ট্যাপ দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট থাকলেও বারবার বলা সত্বেও মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেননি বিভাগীয় সভাপতি। অন্যদিকে, বিভাগের ২০২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থীরাও ভুগছেন একাডেমিক জটিলতায়। তাদের রুটিন মাফিক ক্লাস শেষ হয়ে গেলেও কোর্স বাকি থাকা সত্ত্বেও অন্য বিভাগের শিক্ষকদের দিয়েও তা সম্পন্ন করার বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেননি সভাপতি। 

এছাড়াও, বিভাগে গ্রাফিক্সের কম্পিউটার নেই, প্রিন্ট করার রুম, টেবিল, পানির ব্যবস্থা এবং ল্যাব ও ওয়ার্কশপ করা হয়নি। শিক্ষার্থীদের পেইন্টিংয়ের জন্য পর্যাপ্ত ইজেল, টুল, স্টুডিও এবং আলোর ব্যবস্থা নেই।পর্যাপ্ত স্থানের সংকুলান না হওয়ায় সাবেক উপাচার্য তাদের ভবনের করিডোরে বসার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন কিন্তু সেখানে কোনো ফ্যান নেই। ফলে গরমে সেখানে স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ কর‍তে পারেন না শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি বিভিন্ন সময় মিটিংয়ের দোহাই দিয়ে শিক্ষকরা সময়মতো ক্লাসে আসেন না এবং বিভাগীয় সভাপতিকেও বিভাগে পাওয়া যায় না বলেও অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। 

এসব অভিযোগের বিষয়ে আজ সকালে শিক্ষার্থীরা বিভাগীয় সভাপতির সাথে মিটিংয়ে বসেন। এসময় বিভিন্ন একাডেমিক জটিলতার অভিযোগ শুনে বিভাগীয় সভাপতি। তবে তিনি এগুলো সমাধান করতে পারবেন না বলে দায়সারা মন্তব্য করেন। এরপর মিটিংয়ের মাঝেই শিক্ষার্থীদের বসিয়ে রেখে বিভাগীয় সভাপতি চলে যান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বিভাগে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা।

বিভাগের শিক্ষার্থী মামুন বলেন, দীর্ঘ ১৮ থেকে ২০ মাস অতিক্রম হওয়ায় আমরা অনেক সমস্যা চেয়ারম্যান স্যারকে জানিয়েছিলাম। কিন্তু সেগুলো ওনারা কোনোভাবেই সমাধানের পদক্ষেপ নেননি। আজকেও আমরা বিভিন্ন সমস্যার ব্যাপারে কথা বলতেছিলাম। কিন্তু তিনি আজও কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়ায় আমরা ক্ষুব্ধ হয়ে ডিপার্টমেন্টে তালা লাগিয়ে দিয়েছিলাম। পরবর্তীতে আগামী সপ্তাহে এবং একাডেমিক কাউন্সিলের পরে সমাধান হবে বলে আশ্বাস দেওয়ায় তালা খুলে দিয়েছি। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চারুকলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান বলেন, ২০২১-২২চারুকলাকে একটি বিশেষায়িত বিভাগ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও অর্ডিন্যান্সে এর পরীক্ষা বা মার্কিং পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত ছিল না। অর্ডিন্যান্সের এই সমস্যাটি গত মাসে সামনে এসেছে যা শিক্ষার্থীরা জানত না। ফলে তাদের পরীক্ষা নিতে দেরি হচ্ছে। এটি সংশোধনে আমরা কাজ করছি। 

ফল প্রকাশে দেরির ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন পরীক্ষক উত্তরপত্র মূল্যায়ন না করে বিদেশে থাকায় ফলাফল প্রকাশে ৫ মাস দেরি হয়েছে। গত ৫ তারিখে তিনি দেশে ফেরার পর থেকে নিয়মিত যোগাযোগ করে করা হচ্ছে।বাকি কার্যক্রম প্রস্তুত রয়েছে, সম্পূর্ণ নম্বর পাওয়া গেলেই দ্রুত ফল প্রকাশ করা হবে। এছাড়া নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষক সংকট সমাধানের চেষ্টা চলছে।