সরকারি চাকরিতে ভাইভার নম্বর বৃদ্ধির প্রতিবাদে কুবিতে মানববন্ধন
সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ১০ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করার প্রস্তাবের প্রতিবাদে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ সিদ্ধান্ত বাতিল করে মেধাভিত্তিক ও স্বচ্ছ নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত না করলে তীব্র আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আব্দুল কাইয়ুম চত্বরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা ‘ভাইবা না মেধা? মেধা মেধা’, ‘কোটা গেছে যে পথে, ভাইভা যাবে সে পথে’, ‘ছি ছি ধিক্কার, জাহেদ চাটুকার’, ‘দোয়েল কোয়েল ময়না টিয়া, ভাইভায় এসো ঘুষ নিয়্যা’ এবং ‘ভাইভার নামে দলীয়করণ, মানি না মানব না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এ সময় শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরির নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা, মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করা এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, মৌখিক পরীক্ষার নম্বর অযৌক্তিকভাবে বাড়ানো হলে লিখিত পরীক্ষায় ভালো ফল করা মেধাবী প্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাব, তদবির ও পক্ষপাতের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
মানববন্ধনে লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে সরকার আবারও বৈষম্যের পথ বেছে নিয়েছে। সরকারি চাকরিতে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে ‘আত্মঘাতী’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে মেধাবীদের মূল্যায়ন ব্যাহত হবে এবং রাজনৈতিক প্রভাব ও তদবিরের সুযোগ বাড়বে।
তিনি সরকারের প্রতি এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে মেধাভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের মেধাবীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে যোগ্যতা অর্জনের আহ্বান জানান। দাবি না মানলে তীব্র আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
ফার্মেসি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাইম ভূইয়া বলেন, ‘তারেক রহমান সরকারকে জানিয়ে দিতে চাই, ভাইভা নামের এই প্রহসন ৪০, ৫০ কিংবা ৬০ নম্বর বন্ধ করে আগের ১০ নম্বরের প্রক্রিয়া বহাল রাখুন। অন্যথায় বৈষম্যের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা আবারও রাজপথে নামবে। আমরা ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা নামাতে পেরেছি; আপনার ছয় মাসের ব্যবস্থার বিরুদ্ধেও দাঁড়াতে বেশি সময় লাগবে না।’
আইন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বায়েজিদ হাসান বলেন, ‘যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক বিএনপি, জামায়াত; সেটি দেখার বিষয় নয়। বাংলাদেশের সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটাই চাওয়া—সুন্দরভাবে দেশ পরিচালনা, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ইনসাফ করা।’
ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রাহিম বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ প্রশাসনকে দলীয়করণের উদ্দেশ্যে কোটার মাধ্যমে মেধাবীদের সঙ্গে বৈষম্য করেছে। সচিবালয় দখলের এই অপচেষ্টা ফ্যাসিবাদ তৈরির প্রথম ধাপ। আমরা দেখছি, বর্তমান সরকারও সেই পথে পা বাড়িয়েছে। কে ক্ষমতায় আসবে, সেটি নয়; সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি সুন্দরভাবে দেশ পরিচালনা এবং বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা।’
উল্লেখ্য, গত রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক উন্নয়ন-সংক্রান্ত সচিব কমিটির বৈঠকে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ১০ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করার প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।