বেরোবিতে ঐতিহ্য উৎসব: একই মঞ্চে প্রাচীন মিসর ও বাংলার লোকসংস্কৃতি
প্রাচীন মিসরের রহস্যময় মমি ও রানি নেফারতিতির ইতিহাসের সঙ্গে বাংলার লোকজ সংস্কৃতির মেলবন্ধনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) শুরু হয়েছে ঐতিহ্য উৎসব-২০২৬। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী এ উৎসবে একই মঞ্চে তুলে ধরা হয়েছে বিশ্ব সভ্যতার ইতিহাস, বাংলার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও লোকজ ঐতিহ্য।
ঐতিহ্য উৎসব-২০২৬-এর উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী।
এবারের উৎসবের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে (অতীতকে দেখা, ইতিহাসকে যাপন করা এবং সংস্কৃতিকে আস্বাদন করা)। আমাদের সমৃদ্ধ অতীত ও ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিকে সবার সামনে তুলে ধরার প্রত্যয় নিয়ে এই বর্ণিল আয়োজন করা হয়েছে। এবারের কার্নিভ্যালের মূল বিষয়বস্তু ছিল বিশ্ব সভ্যতার এক রোমাঞ্চকর পথচলা। উৎসব প্রাঙ্গণে একদিকে যেমন প্রদর্শন করা হয়েছে প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার নানা আকর্ষণীয় ও রহস্যময় দিক, যার মধ্যে অন্যতম ছিল রানি নেফারতিতি ও রহস্যময় তুতেনকাকের মমি সহ মিশরীয় ইতিহাসের বিভিন্ন উপাদান। অন্যদিকে ঠিক তেমনি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বাংলার নিজস্ব দেশীয় ঐতিহ্যবাহী ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। মধ্যযুগীয় মসজিদ,প্রত্নতাত্ত্বিক খনন কাজের বিভিন্ন জিনিস, ফলে পুরো অনুষ্ঠানস্থলটি ইতিহাস ও লোকসংস্কৃতির এক জীবন্ত সংগ্রহশালায় পরিণত হয়।
ঐতিহ্যবাহী পোশাকে শিক্ষার্থীদের রঙিন উপস্থিতি উৎসবের প্রধান আকর্ষণ ছিল এর দৃশ্যমান আবহ। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশীয় ও ঐতিহ্যবাহী সাজে সজ্জিত বাহারি পোশাক পরে উৎসবে অংশ নেন। প্রাচীন ও লোকজ সংস্কৃতির আদলে তৈরি এই পোশাকী রূপ পুরো আয়োজনকে এক অভূতপূর্ব ও উৎসবমুখর করে তোলে।
ঘুরতে আসা শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমাদের সমৃদ্ধ অতীত ও ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিকে সকলের সামনে তুলে ধরার প্রত্যয়ে এই আয়োজন সত্যি চমৎকার । বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও প্রত্নতত্ব বিভাগের এই আয়োজন। আমাদের ইতিহাস কে জানতে আরও প্রাণময়, অর্থবহ ও গৌরববান্বিত করবে।’
ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী সারজিদা আক্তার বলেন, ‘এই উৎসবের মাধ্যমে আমরা অতীতকে সবার সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। প্রত্নতত্ত্বের প্রকৃত তাৎপর্য তুলে ধরতে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এর গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করাই ছিল আমাদের উদ্দেশ্য।’
ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের আয়োজক কমিটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সোহাগ আলী। তিনি বলেন, ‘শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ না থেকে ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতেই এ আয়োজন।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকতা আলী বলেন, ‘ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে ভুলে কোনো জাতি সামনের দিকে এগোতে পারে না। আমাদের ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ বিশ্ব সভ্যতার ইতিহাস ও দেশীয় সংস্কৃতিকে একই মঞ্চে চমৎকারভাবে উপস্থাপন করেছে। শিক্ষার্থীদের এই সৃজনশীলতা ও বাহারি পোশাকের উপস্থিতি সত্যিই প্রশংসনীয়। বৈশ্বিক জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নিজস্ব শিকড়কে চেনার এই প্রয়াস শিক্ষার্থীদের আরও সমৃদ্ধ করবে।’