সাজানো মামলা দিয়ে গ্রেফতার শিবিরকর্মী, ১০ বছর পর খালাস
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সাবেক শিক্ষার্থী ও ছাত্রশিবিরের সাবেক কর্মী মো. মনিরুল ইসলাম রাসেল প্রায় এক দশক পর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা একটি সাজানো মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন। এর আগে ২০২৩ সালে তিনি একটি অস্ত্র মামলাতেও খালাস পান।
মনিরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
তিনি বলেন, ২০১৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের সানন্দা এলাকার একটি মেস থেকে পুলিশ আমিসহ আরো তিন শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে। পরে আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে পৃথক হয়। ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণেই আমাদের গ্রেপ্তার ও মামলায় জড়ানো হয়েছিল। গ্রেপ্তারের সময় পুলিশ মেসের কক্ষে অস্ত্রসহ বিভিন্ন সামগ্রী রেখে তা উদ্ধারের ঘটনা সাজানো হয়েছিল। মামলায় আমাকে ১ নম্বর আসামি করা হয়। প্রায় সাত মাস ১৩ দিন কারাগারে থাকি। কারাগারে থেকেই সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছিল।
ভুক্তভোগী জানায়, পরবর্তী সময়ে মামলার সাক্ষীদের জবানবন্দিতে অস্ত্র দেখার বিষয়টি অস্বীকার করা হয়। তাঁদের সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল বলেও সাক্ষীরা আদালতে জানান। পরে ২০২৩ সালে অস্ত্র মামলাটি থেকে তিনি খালাস পান। সর্বশেষ গত ২৮ আগস্ট সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলাটিও খারিজ/খালাস হয়েছে বলে জানান তিনি।
মনিরুল বলেন, ‘মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের জীবন থেকে অনেক সময় কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আমাদের পাশাপাশি পরিবারকেও অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। আমাদের একটাই চাওয়া, আর কোনো নিরপরাধ শিক্ষার্থীকে যেন এভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা না হয়।’
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের বর্তমান সভাপতি মোজাম্মেল হোসাইন আবির বলেন, ‘২০১৬ সালে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সাবেক শিক্ষার্থী ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীকে সানন্দা মেস থেকে গ্রেফতার করে তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দুটি মামলা দেওয়া হয়েছিল। অস্ত্র মামলাটি ২০২৩ সালে তারা খালাস পান এবং প্রায় এক দশক পর সন্ত্রাসবিরোধী মামলাটিও প্রত্যাহার হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক মতের ভিন্নতা কখনো একজন শিক্ষার্থীর মৌলিক অধিকার, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ কেড়ে নেওয়ার কারণ হতে পারে না। আমরা অতীতের এসব ঘটনা নিয়ে প্রতিহিংসা চাই না; আমরা চাই সত্য উদঘাটন, ন্যায়বিচার এবং ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষার্থী যেন তার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অন্যায় হয়রানির শিকার না হয়।