জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮টি সাবডোমেইন সম্পূর্ণ নিরাপদ: কর্তৃপক্ষ
গত ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসে সাদী আল মেহেদী কর্তৃক লিখিত ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮টি সাবডোমেইনে ভয়াবহ নিরাপত্তা ত্রুটি, কোটি শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত তথ্য উন্মুক্ত’ শীর্ষক এক মতামতের প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) তাইয়েবা তাসনীম সিরাজ প্রেরিত ওই প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়া মিথ্যা, বানোয়াট, মনগড়া ও বাস্তবতা বিবর্জিত তথ্য দিয়ে মতামতটি লেখা হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এই ভুয়া তথ্যের মতামতে বিষণ্ন হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এই ধরনের অপতথ্য ও মিথ্যা মতামতের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
নিচে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্তব্য উপস্থাপন করা হলো-১. প্রকাশিত মতামতে বলা হয়েছে- "বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত অ্যাকটিভ সাবডোমেইনের আসল সার্ভারে কোনো বৈধ SSL সার্টিফিকেট নেই, রয়েছে শুধু একটি ডিফল্ট প্লেসহোল্ডার সার্টিফিকেট।”-লেখকের এই তথ্য সঠিক নয়। আমাদের বৈধ SSL সার্টিফিকেট আছে। এটি এন্টারপ্রাইজ ভার্সন এবং অর্গানাইজেশনাল ভেরিফাইড। ২. চাকরির যে সাবডোমেইনের কথা বলা হয়েছে সেটি সাময়িক। বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়, তখনই কেবল চালু হয়। এতে শিক্ষার্থীদের কোনো তথ্য থাকে না, শুধু চাকরিপ্রার্থীদের। এটি এখন বন্ধ আছে। ভবিষ্যতে SSL সার্টিফিকেটসহ এই সার্ভিসটি চালু করা হবে। ৩. মতামতে "ম্যান ইন দ্য মিডল আক্রমণ” এর কথা বলা হয়েছে। এটি কল্পনাপ্রসূত। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নেটওয়ার্কে একাধিক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে। ৪. "SSL স্ট্রিপিং”-এর কথা বলা হয়েছে। এটিও সঠিক তথ্য নয়। আমাদের সকল তথ্য সুরক্ষিত আছে। ৫. "ফিশিং ও পরিচয় প্রতারণা” এটি লেখকের কল্পনাপ্রসূত। বাস্তবতার সাথে মিল নেই। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইবার সিকিউরিটি এমনভাবে প্ল্যান করা, এতে পরিচয়পত্র চুরি করার সুযোগ নেই। ৬. "শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য ও একাডেমিক রেকর্ড সম্পূর্ণ উন্মুক্ত”- লেখকের এই তথ্যও সঠিক নয়। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন সেবার একাধিক স্তরে নিরাপত্তা রয়েছে। নেটওয়ার্কের নিরাপত্তায় কর্তৃপক্ষ নিয়মিত আইটি টিমের মাধ্যমে অডিট করে থাকে। এছাড়া স্বনামধন্য আইটি অডিট প্রতিষ্ঠান দ্বারা অডিট করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। শুধু চাকরিপ্রার্থীদের সাবডোমেইনটিতে SSL সার্টিফিকেট ছিল না। সম্প্রতি সেটিও নিশ্চিত করা হয়েছে। ৭. লেখক তার মতামত প্রকাশ করতে গিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সম্পূর্ণ নিরাপদ অনলাইন সেবাকে "নিরাপত্তার মুখোশ” বলে আখ্যা দিয়েছেন, যা সর্বৈব অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
প্রতিবাদলিপিতে আরও বলা হয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা না করে বা তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়াই লেখক মতামতটি লিখেছেন। এই মতামতটি এ আই (AI) জেনারেটেড বলে আমাদের মনে হয়েছে। তারপরেও লেখকের মতামতকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তিনি যে ৮টি সাবডোমেইন এবং মূল ডোমেইনের নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলেছেন, সেগুলো পুনরায় পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে- মূল এবং সবগুলো সাবডোমেইনের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত আছে। তাই প্রকাশিত মতামতের বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও চাকরিপ্রার্থীদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অনলাইন সার্ভিস ও তথ্য সম্পূর্ণ নিরাপদ।
প্রতিবাদে সাদী আল মেহেদীর মতামতটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
এদিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবাদের ব্যাখ্যায় সাদী আল মেহেদী বলেন, আমার লেখার উদ্দেশ্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধচারণ নয়। বাংলাদেশের ৩৩ লক্ষ শিক্ষার্থী ও লক্ষাধিক চাকরিপ্রার্থীর ডিজিটাল নিরাপত্তার পক্ষে। এই মতামতের ফলে যদি একটি নিরাপত্তা ত্রুটিও সংশোধন হয়, সেটাই লেখার সার্থকতা।
তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ, সাবডোমেইনগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে একটি স্বচ্ছ অডিট করুন। সেই প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।