০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:১৬

ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষের দুদিন পরও থমথমে ইবি, প্রস্তুত অতিরিক্ত পুলিশ

বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে।   © টিডিসি ছবি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল নেতা কর্তৃক ছাত্রশিবিরের হল সেক্রেটারিকে থাপ্পড় মারার ঘটনায় ছাত্রদল-শিবিরের সংঘর্ষ ও দেশীয় অস্ত্রের মহড়ার দু'দিন পরেই থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। 

এদিকে আজ দুপুরে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী বিক্ষোভ কর্মসূচির আগাম তথ্যে ক্যাম্পাস গেটে উত্তেজনার আশঙ্কায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই ক্যাম্পাসের মেইন গেটে পুলিশের সদস্যদের অবস্থান করতে দেখা যায়। বেলা গড়ানোর সাথে সাথে বাড়ানো হয় অতিরিক্ত পুলিশের সংখ্যা। এছাড়া ডিবি পুলিশ এবং সাদা পোষাকেও পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।  যেকোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রতিদিনের ন্যায় আজকেও ক্যাম্পাসে সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 

এদিকে, আজ দুপুর ৩ টার দিকে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেট এলাকায় বড় ধরনের সংঘর্ষ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা। পরিস্থিতি অবনতির দিকে গেলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাস এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীলদের পক্ষ থেকে পুরো এলাকার গতিবিধির ওপর চলছে কড়া নজরদারি। 

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ওসি এস এম মামুনুর রশীদ বলেন, বর্তমানে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। আমরা পুলিশ প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছি। পুলিশ সদস্যরা ক্যাম্পাসে গেটে দায়িত্ব পালন করছেন। জামায়াত শিবির এবং বিএনপি-ছাত্রদল উভয়পক্ষই তাদের কর্মসূচি স্থগিত করেছে বলে জানিয়েছে। তবুও আমরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। 

উত্তেজনার বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসান বলেন, আমরা জেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা তাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি স্থগিত করবেন বলে আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দও আমাদের জানিয়েছেন যে, জামায়াতের নেতাকর্মীরা কর্মসূচি না দিলে তারাও কোন কর্মসূচি করবেন না। আমরা উভয়পক্ষকে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছি। 
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সবধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী তারা ক্যাম্পাসে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।