ছিটকিনি লাগানোকে কেন্দ্র করে ববিতে দফায় দফায় সংঘর্ষ
মেসে দরজায় ছিটকিনি লাগানো কেন্দ্র করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) সমাজবিজ্ঞান ও অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরবর্তীতে এতে কেমিস্ট্রি এবং মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরাও জড়িয়ে পড়েন।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ছাতিমতলায় এসংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংলগ্ন একটি মেসে দরজায় ছিটকিনি লাগানো নিয়ে গত বৃহস্পতিবার সমাজবিজ্ঞান বিভাগের (২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থী সৈকতের সঙ্গে অর্থনীতি বিভাগের (২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থী সোভন ও আজমের কথা-কাটাকাটি হয়। জুনিয়র শিক্ষার্থী হয়েও জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীকে ছিটকিনি লাগাতে বলার জেরে এ বিরোধের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে, কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সৈকতকে গালাগাল করে মেস থেকে বের করে দেওয়া হয়।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের দাবি, বৃহস্পতিবার রাতে অর্থনীতি ও কেমিস্ট্রি বিভাগের কিছু শিক্ষার্থী তাদের বিভাগের শিক্ষার্থীদের বাসায় তল্লাশি চালায় ও তালাবন্ধ করে রাখে। পরবর্তীতে বিষয়টি সমাধান ও তালা খোলার বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে প্রক্টরকে জানানো হলেও কার্যকর সমাধান মেলেনি। শুক্রবার বিকেলে ছাতিমতলার একটি দোকানে বিষয়টি মীমাংসার জন্য উভয় পক্ষ বসলে সেখানে নতুন করে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও মারামারি শুরু হয়।
ঘটনার জের ধরে রাত ১০টার দিকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সমাজবিজ্ঞান ও অর্থনীতি বিভাগের সাথে কেমিস্ট্রি এবং মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরাও যোগ দিলে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় শ'খানেক শিক্ষার্থীর মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আশ্রাফুল বলেন, গতকাল আমরা জানতে পারি যে গতকাল রাত ১২টা একটার দিকে ইকোনোমিকস ও ক্যামেস্ট্রি বিভাগের কিছু শিক্ষার্থী আমাদের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সৈকতসহ আমাদের বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষার্থীর বাসায় তল্লাশি চালায় এবং তালা বদ্ধ করে রাখে। এঘটনা প্রক্টরকে জানালে প্রক্টর বলে তোমরা তোমাদের বিভাগের পোলাপান নিয়ে তালা খুলেটা দাও। সন্ধার দিকে বিভাগের শিক্ষার্থীরা মিলে তালা খুথে গিয়ে একটা পেরেক মারা দেখে মাড়ির মালিককে ডাকি। তখন বাড়ি ওয়ালা নামাজে থাকায় ওই ম্যাসের আরিফ ভাইকে ডাকতে গেলে তিনি উচ্চ ভাষায় কথা বলে। আমরা তখন নিচে থেকে উপরে চলে যায়। আমরা তখন মিমাংসা করবে বলে উভয় পক্ষ থেকে ৫জন বসে করে মিমাংসা করবে বলে আমরা চলে আসি। এর বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ইসলামি ব্যাংকের নিচে বসে থাকা অবস্থায় ক্যামেস্ট্রি ও অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা আমাদের উপর হামলা চালায়।
ঘটনার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর প্রক্টরিয়াল বডি ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে। সহকারী প্রক্টর ড. গাজী সাখাওয়াত হোসেন মুঠোফোনে জানান, খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
বরিশাল মেট্রোপলিটন বন্দর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান, দুই গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থানে ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।