বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদলে ‘খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়’ নামকরণ করার প্রস্তাব
দেশের ৫৬তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়’-এর নাম পরিবর্তন করে বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নামে নামকরণ করার প্রস্তাব দিয়েছেন স্থানীয় এক সংসদ সদস্য। সম্প্রতি বগুড়া জেলা ও বগুড়া সিটি করপোরেশনের সমন্বিত উন্নয়ন কর্মসূচি বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় এ প্রস্তাব করেন বগুড়া ৭ আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিলটন।
পরে সভার কার্যবিবরণীতে এ প্রস্তাবটি সিদ্ধান্ত আকারে গৃহীত হয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। সভায় বগুড়া ২ আসনের সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মীর শাহে আলম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, মতবিনিময় সভার এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ‘বেগম খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়’ নামকরণের প্রস্তাব পাঠিয়েছেন বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. কুদরত ই জাহান। আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে তিনি বলেন, প্রস্তাবটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, গত ২৫ জুলাই বগুড়া জেলা ও বগুড়া সিটি করপোরেশনের সমন্বিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বগুড়ার সব সংসদ সদস্য ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারও ওই সভায় অংশ নেন। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান।
সভায় বগুড়া ৭ আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিলটন বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আমলেই বগুড়ার যতটুকু উন্নয়ন হয়েছে, এরপর বগুড়া তথা উত্তরবঙ্গের আর কোনো উন্নয়ন হয়নি। খালেদা জিয়া চারবার বগুড়া থেকে নির্বাচন করেছেন। প্রতিবার বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। একটি নিরিবিলি ও মনোরম পরিবেশ এবং ভালো জায়গা দেখে বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপনের অনুরোধ জানান মোরশেদ মিলটন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘বেগম খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়’ করার প্রস্তাব দেন।
জানা গেছে, ২০০১ সালের ১৫ জুলাই বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন গেজেট আকারে প্রকাশ হলেও তা কার্যকর করা হয়নি। দীর্ঘদিন পর ২০২৩ সালের ১০ মে এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১-এর ধারা ১-এর উপধারা ২-এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ইংরেজি আগামী ২২ মে উক্ত আইন কার্যকর করার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে ওই বছরের ১৩ মার্চ বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে পুরোনো আইন থাকায় ২০১৯ সালে অনুমোদিত এ সংক্রান্ত নতুন আইনের খসড়া বাতিল করা হয়। তখন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এমন তথ্য জানিয়েছিলেন তৎকালীন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন।
মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেছিলেন, বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১৯ এর বিষয়ে মন্ত্রিসভার একটি নীতিগত সম্মতি ছিল। কিন্তু নীতিগত সম্মতি নিয়ে ভেটিংয়ের জন্য এটি লেজিসলেটিভ বিভাগে পাঠানো হলে দেখা গেছে, ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাবস্থায় এ সংক্রান্ত একটি আইন পাস হয়ে আছে। সে আইনে বলা ছিল, সরকার আইনটি গেজেট আকারে প্রকাশ করলে সেটি কার্যকর হবে। কিন্তু আইনটি পাস হলেও সে সময় আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা ছাড়ার পর আর কেউ এটি নিয়ে কাজ করেনি, বিশ্ববিদ্যালয়ও স্থাপন করা হয়নি।
এদিকে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবতর্নের পরে ২০২৫ সালের ৩ জুন বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কুদরত-ই-জাহান। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর গত ৭ জুলাই ২০০১ সালের ‘বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন’ রহিত করা হয়। এর পরিবর্তে ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০২৬’ বিল উত্থাপন করা হয় জাতীয় সংসদে। তবে এখনও বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য ড. মো. কুদরত-ই-জাহান বলেন, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অর্গানোগ্রাম তৈরি করে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম চালু করতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনে (ইউজিসি) চিঠি পাঠিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮টি অনুষদের অনুমোদন পেয়েছি। প্রতিটি অনুষদে দুটি করে বিভাগ চেয়ে ইউজিসিতে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি।