পাস করা বিষয়েই ইমপ্রুভমেন্টে ফেল দেখাল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪ সালের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফল প্রকাশের পর পাস করা বিষয়ে মানোন্নয়ন (ইমপ্রুভমেন্ট) পরীক্ষা দিয়ে ‘ফেল’ আসার অভিযোগ উঠেছে। পদার্থবিদ্যা বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর ফলাফলে এমন অসঙ্গতি দেখা গেছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
গতকাল সোমবার (৩১ আগস্ট) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪ সালের অনার্স চতুর্থ বর্ষ পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। ৩১টি বিষয়ে ৮৮১টি কলেজের ২ লাখ ৩২ হাজার ৬২৪ জন পরীক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নেন। পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৬৫ দশমিক ১০ শতাংশ।
ফল প্রকাশের পর পদার্থবিদ্যা বিভাগের এক শিক্ষার্থীর ফলাফলে দেখা যায়, ২০২৩ সালের পরীক্ষায় ‘পরিসাংখ্যিক বলবিদ্যা’ (কোড: ২৪২৭১১) বিষয়ে তিনি C+ গ্রেড পেয়ে উত্তীর্ণ হন। পরে ফল উন্নয়নের জন্য ২০২৪ সালে একই বিষয়ে ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষায় অংশ নেন। কিন্তু প্রকাশিত নতুন ফলাফলে ওই বিষয়েই তাকে ‘F’ (ফেল) দেখানো হয়েছে।
একই বিভাগের আরেক শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। ২০২৩ সালের পরীক্ষায় ‘সলিড স্টেট ফিজিক্স-২’ (কোড: ২৪২৭০৩) বিষয়ে তার D গ্রেড ছিল। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে ফল উন্নয়নের জন্য ওই বিষয়ে ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষা দেন তিনি। তবে ৩১ আগস্ট প্রকাশিত ফলাফলে একই বিষয়ে তাকে ‘F’ গ্রেড দেখানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের দাবি, আগে পাস করা বিষয়ে ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষা দেওয়ার পর নতুন ফলাফলে ফেল দেখানোর বিষয়টি তাদের কাছে অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। তারা বলছেন, ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষায় আগের ফলাফলের চেয়ে কম গ্রেড বা ফেল এলে আগের ফলাফলই বহাল থাকার নিয়ম রয়েছে। ফলে প্রকাশিত ফলাফলে ‘F’ দেখানোর বিষয়টি কীভাবে এসেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
শিক্ষার্থীরা আরও জানান, তাদের ২০২৩ সালের ফলাফল ও ২০২৪ সালের ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষার ফলাফল পুনরায় যাচাই করা প্রয়োজন। ফলাফল প্রস্তুত বা প্রকাশের ক্ষেত্রে কোনো কারিগরি কিংবা তথ্যগত ত্রুটি হয়ে থাকলে তা সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, প্রকাশিত ফলাফলে কোনো প্রকার অসঙ্গতি বা ভুলত্রুটি পরিলক্ষিত হলে তা সংশোধন অথবা ফলাফল সম্পূর্ণ বাতিল করার ক্ষমতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করে।