ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৫
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ সংঘর্ষ হয়।
আহতরা হলেন নতুন কমিটির সভাপতি ওমর ফারুক মানিকের অনুসারী শাকিল ও প্রতাপ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারেক রহমান এবং কমিটি থেকে বাদ পড়া তালহা জোবায়ের ও মো. রায়হান। তারা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
গতকাল রবিবার ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা হয়। সভাপতি হন ওমর ফারুক মানিক ও সাধারণ সম্পাদক পদ পান ফাতিন ইশরাক। এর পর থেকে ফেসবুকে পদ না পাওয়া নেতাকর্মীদের সঙ্গে নতুন কমিটির নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি পোস্ট ও কমেন্টযুদ্ধ চলে।
আজ সোমবার সকালে পদ না পাওয়া নেতাকর্মীরা কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন। প্রশাসনিক ভবনের সামনে নতুন কমিটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে প্রথমে তাদের তর্ক ও পরে সংঘর্ষ হয়।
সহসভাপতির পদ পেলেও নতুন কমিটি নিয়ে অসন্তুষ্ট ওমর ফারুক। তিনি বলেন, ‘পদবঞ্চিতরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করছিলেন। এ সময় তাদের ওপর অযথা হামলা করা হয়। এতে আমাদের তিনজন আহত হয়েছেন। আমরা এসে দেখি আমাদের ছোট ভাইদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। এগিয়ে গেলে আমাদের ওপরও হামলা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্রদল করে আমরা কোনো অন্যায় করিনি। অযোগ্যদের নেতৃত্বে এই কমিটি আমরা মানি না। ছাত্রদলকে ধ্বংস করার জন্যই এই কমিটি করা হয়েছে। হামলায় বহিরাগতরাও জড়িত ছিল। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।’
নতুন সভাপতি ওমর ফারুক মানিক পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থান করছিলাম। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল করছিলেন। আমার সঙ্গে থাকা কয়েকজন আজান হচ্ছে জানিয়ে তাদের মিছিল বন্ধ করতে বলেন। এ কথা বলায় তারা ভুল বুঝে আমাদের ওপর হামলা করে। এতে আমার দুই কর্মী আহত হয়েছেন।’
এ বিষয়ে কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি নাহিদুজ্জামান রানা বলেছেন, ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে অসন্তোষ থেকেই সংঘর্ষের এই ঘটনা। তিনি ও তার কর্মীরা গিয়ে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের শান্ত করেন।
রানার বললেন, ‘দীর্ঘদিন কমিটি না থাকায় অনেক যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি হয়েছে। আমরা বিষয়টি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে জানিয়েছি। কেন্দ্র থেকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার কথা জানানো হয়েছে।’
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুর রহমান বলেছেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ কলেজে অবস্থান নেয়। বর্তমানে কলেজের পরিস্থিতি স্বাভাবিক। এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।’