২৬ আগস্ট ২০২৬, ২২:২১

মঞ্চে ফিরছে ‘পদ্মা নদীর মাঝি’, নতুন প্রযোজনায় তেজগাঁও কলেজ থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ

মঞ্চে ফিরছে ‘পদ্মা নদীর মাঝি’, নতুন প্রযোজনায় তেজগাঁও কলেজ থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ  © টিডিসি সম্পাদিত

ঢাকার মঞ্চে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ অবলম্বনে নতুন প্রযোজনা নিয়ে আসছে তেজগাঁও কলেজের থিয়েটার এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ। আগামী ২৭, ২৮ ও ২৯ আগস্ট বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় নাটকটির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।

‘পদ্মা নদীর মাঝি’ শুধু পদ্মাপাড়ের জেলেদের জীবনকাহিনি নয়; এর মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে শ্রমজীবী মানুষের দারিদ্র্য, শ্রেণি-শোষণ, প্রেম, আকাঙ্ক্ষা, প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের দ্বন্দ্ব এবং মুক্তির আকাঙ্ক্ষা। তেজগাঁও কলেজের প্রযোজনায় জেলেদের জীবনকে কেবল দারিদ্র্যের করুণ চিত্র হিসেবে নয়, বরং তাদের শ্রম, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সামাজিক সম্পর্ক ও অস্তিত্বসংকটের মধ্য দিয়ে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

‘পদ্মা নদীর মাঝি’ কেন এখন মঞ্চে—এই প্রশ্নকে সামনে রেখেই প্রযোজনাটি নির্মিত হয়েছে। সময় ও মানুষের জীবনযাপন বদলালেও শ্রমজীবী মানুষের অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক বৈষম্য, শ্রেণিগত ক্ষমতার অসমতা, প্রান্তিক মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রাম এবং ভালো জীবনের স্বপ্ন আজও বাস্তবতার অংশ। ফলে প্রায় এক শতাব্দী আগের মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আখ্যান বর্তমান সময়েও নতুনভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

প্রযোজনাটির মঞ্চ পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দিচ্ছেন সৈয়দ মুহাম্মদ জুবায়ের। প্রাথমিক নাট্যরূপ করেছেন মো. রেজওয়ান। ড্রামাটার্গ হিসেবে রয়েছেন ড. জাহারাবী রিপন এবং পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা করেছেন মিনহাজ উদ্দিন নাকিব।

নির্দেশক সৈয়দ মুহাম্মদ জুবায়ের বলেন, ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ শুধু অতীতের জেলেপল্লির গল্প নয়। সময় বদলেছে, কিন্তু শ্রমজীবী মানুষের অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক বৈষম্য, শ্রেণিগত ক্ষমতার অসমতা এবং একটু ভালো জীবনের স্বপ্ন আজও বাস্তবতার অংশ। উপন্যাসটি মঞ্চে আনার মধ্য দিয়ে অতীতের ভেতর থেকে বর্তমানকে প্রশ্ন করতে চাওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রযোজনাটিতে চরিত্রগুলোকে কোনো সরল নৈতিক কাঠামোর মধ্যে দেখানো হয়নি। তাদের দারিদ্র্যের পাশাপাশি প্রেম, আকাঙ্ক্ষা, দুর্বলতা ও স্বপ্নকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ময়নাদ্বীপের স্বপ্নের মধ্য দিয়ে মুক্তির আকাঙ্ক্ষার পাশাপাশি সেই মুক্তির সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

প্রযোজনায় কুবের চরিত্রে রাইসুল ইসলাম রোমান, কপিলা চরিত্রে নুসরাত লামিয়া, হোসেন মিয়া চরিত্রে আতিকুল ইসলাম, গণেশ চরিত্রে মো. রেজওয়ান, মালা চরিত্রে তাসনিম হায়দার লুবনা, গোপি চরিত্রে নুসরাত জাহান সাদিয়া এবং রাসু চরিত্রে মিনহাজ উদ্দিন নাকিব অভিনয় করছেন।

এ ছাড়া ধনঞ্জয়, বৈকুণ্ঠ ও বঙ্কু চরিত্রে তুর্য দত্ত; পীতম ও পুলিশ চরিত্রে মাশরাফি সজিব; নকুল দাস ও আফিম ব্যবসায়ী চরিত্রে এম সাইফুর রহমান; আমিনুদ্দিন ও ডাক্তার বাবু চরিত্রে অন্তর মুন্সি; শীতল বাবু চরিত্রে রাহিম চৌধুরি সাগর; শম্ভু চরিত্রে শাহরিয়ার কাদির এবং আমিনুদ্দিনের মেয়ে চরিত্রে ইসরাত বিনতে তুবা অভিনয় করছেন।

প্রযোজনাটির আলোক পরিকল্পনা ও অভিনয় প্রশিক্ষণে রয়েছেন আতিকুল ইসলাম। মঞ্চ ব্যবস্থাপনায় মাশরাফি সজিব এবং সহকারী মঞ্চ ব্যবস্থাপনায় অন্তর মুন্সি। পোশাক পরিকল্পনা ও রূপসজ্জায় ড. লতা সমদ্দার। সঙ্গীত পরিকল্পনায় শারমিন সুলতানা নিপা। সঙ্গীত পরিকল্পনা সহকারী ও প্রক্ষেপণে রয়েছেন ওমর ফারুক ও মোকাদ্দেসুর রহমান সান। দ্রব্যসামগ্রী পরিকল্পনা ও নির্মাণে মাশরাফি সজিব ও ইসরাত বিনতে তুবা। পোস্টার ডিজাইনে মোকাদ্দেসুর রহমান সান এবং ব্রোশিওর নির্মাণে মিনহাজ উদ্দিন নাকিব ও মেহেদী হাসান।

প্রযোজনা অধিকর্তার দায়িত্বে রয়েছেন তেজগাঁও কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক শামীমা সুলতানা। প্রযোজনা উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন উপাধ্যক্ষ (প্রশাসন) অধ্যাপক নুর নবী আল মাহমুদ ও উপাধ্যক্ষ (একাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল আলম। প্রযোজনা সমন্বয়ক নওরীন সাজ্জাদ।

প্রদর্শনী তারিখ-তারিখ: ২৭, ২৮ ও ২৯ আগস্ট; সময়: সন্ধ্যা ৭টা; আয়োজনে: থিয়েটার এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ, তেজগাঁও কলেজ।