২৩ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪৮

নৈয়ায়িকের ২০তম আন্তঃডিসিপ্লিন বিতর্কে চ্যাম্পিয়ন কেমিস্ট্রি

নৈয়ায়িক আন্তঃডিসিপ্লিন বিতর্ক প্রতিযোগিতা  © টিডিসি ফটো

‘মতের স্বাধীনতা, ভাষায় দায়বদ্ধতা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ২০তম নৈয়ায়িক আন্তঃডিসিপ্লিন বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কেমিস্ট্রি ডিসিপ্লিন।

শনিবার (২২ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক বিল্ডিং-৩-এ অনুষ্ঠিত হয় প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব। ফাইনালে কেমিস্ট্রি ও ফার্মেসি ডিসিপ্লিনের বিতার্কিকরা নির্ধারিত বিষয়ের ওপর যুক্তি, পাল্টা যুক্তি ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ বিতর্কে শেষ পর্যন্ত কেমিস্ট্রি ডিসিপ্লিন বিজয়ী হয়।

ফাইনাল বিতর্ক ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার, ছাত্রবিষয়ক পরিচালকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্ক সংগঠন নৈয়ায়িকের সাবেক সদস্য ও অ্যালামনাইদের অনেকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল ৮টায় টিম রিপোর্টিংয়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয় প্রতিযোগিতার প্রথম দিনের কার্যক্রম। এশিয়ান সংসদীয় বাংলা বিতর্কের আদলে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় প্রথম দিনে তিনটি প্রাথমিক রাউন্ড অনুষ্ঠিত হয়। পরে কোয়ার্টার ফাইনালের মধ্য দিয়ে দিনের প্রতিযোগিতা শেষ হয়।

দ্বিতীয় দিন শনিবার সেমিফাইনালের মধ্য দিয়ে শুরু হয় প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব। সেমিফাইনাল শেষে ফাইনালে মুখোমুখি হয় কেমিস্ট্রি ও ফার্মেসি ডিসিপ্লিন। যুক্তি, তথ্য ও উপস্থাপনার সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত ফাইনাল বিতর্ক শেষে কেমিস্ট্রি ডিসিপ্লিনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

প্রতিযোগিতায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ ও ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। বিজ্ঞান, কলা, ব্যবসায় শিক্ষা, প্রকৌশল ও সমাজবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন একাডেমিক ক্ষেত্রের শিক্ষার্থীরা বিতর্কের মাধ্যমে নিজেদের যুক্তি ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। ফলে আয়োজনটি শুধু প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মতবিনিময় ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার সুযোগ তৈরি করে।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী সাবিনা ইয়াসমিন তিথী বলেন, বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একই মঞ্চে বিতর্ক করার সুযোগ পাওয়াটা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এখানে শুধু জয়-পরাজয় নয়, অন্যের যুক্তি শোনা এবং নিজের বক্তব্যকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে দায়বদ্ধতার বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক আমাদের বাস্তব জীবনেও সচেতন হতে সাহায্য করবে।

শিক্ষা ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী সুপ্রিয় পাল জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে এখন খুব সহজেই যেকোনো মতামত অনেক মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। তাই কীভাবে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করব, আবার সেই বক্তব্য যেন অন্যের প্রতি অসম্মান বা বিভেদ তৈরি না করে-এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা জরুরি। নৈয়ায়িকের এই আয়োজন আমাদের যুক্তি ও সমালোচনামূলক চিন্তার চর্চার পাশাপাশি দায়িত্বশীলভাবে কথা বলতেও উৎসাহিত করবে।

নৈয়ায়িকের বর্তমান সভাপতি নওরিন হক জানান, মতের স্বাধীনতার পাশাপাশি ভাষা ব্যবহারে দায়বদ্ধতার বিষয়টি আমাদের সময়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিতর্কের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শুধু নিজের মত প্রকাশ করে না বরং অন্যের মতকে শুনতে, যুক্তি দিয়ে বিশ্লেষণ করতে এবং ভিন্নমতকে সম্মান করতে শেখে। এবারের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থীদের মধ্যে যুক্তিনির্ভর ও দায়িত্বশীল মতপ্রকাশের চর্চা আরও শক্তিশালী করতে চাই।

দুই দিনের এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের যুক্তি উপস্থাপন, সমালোচনামূলক চিন্তা, ভিন্নমতকে সম্মান করা এবং দায়িত্বশীলভাবে মত প্রকাশের চর্চা আরও জোরদার হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্ক সংগঠন নৈয়ায়িক এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এবারের প্রতিযোগিতার মূল স্লোগান ছিল ‘মতের স্বাধীনতা, ভাষায় দায়বদ্ধতা’। ২১ ও ২২ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক বিল্ডিং-৩-এ অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি নৈয়ায়িকের সাবেক সদস্য ও অ্যালামনাইদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য।