২১ আগস্ট ২০২৬, ১৮:২৩

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের মতো চিন্তা-চেতনা, গবেষণা নেই বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারদের

ভিসি অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম  © টিডিসি সম্পাদিত

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির (ডিসিইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশে স্টুডেন্ট এনরোলমেন্টের দিক থেকে থার্ড লার্জেস্ট ইউনিভার্সিটি হচ্ছে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি (ডিসিইউ)। সেখানে প্রায় দেড় লক্ষ স্টুডেন্ট রয়েছেন। তাদের শিক্ষক কারা? এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াবেন কারা? 

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন হায়ার এডুকেশন অ্যাক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত দুই দিনব্যাপী উপাচার্যদের সংলাপের প্রথম দিনে উচ্চশিক্ষার নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে মতবিনিময় সেশনে তিনি এসব কথা বলেন। আজ শুক্রবার (২১ আগস্ট) সাভারের ব্র্যাক সিডিএমে এ সংলাপ শুরু হয়েছে। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আজকে যে অবস্থা দেখতে পাচ্ছেন। ‌‌জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সারা বাংলাদেশে পড়াচ্ছেন কারা? বিসিএস এডুকেশনের যে শিক্ষক তারা। একজন শিক্ষক ইন্টারমিডিয়েট পড়াচ্ছেন, ডিগ্রি পড়াচ্ছেন। আবার সেই শিক্ষক অনার্স-মাস্টার্সও পড়াচ্ছেন। একইভাবে এই সাতটা কলেজের মধ্যে বিসিএস এডুকেশন ক্যাডারের শিক্ষকরা রয়েছেন। ফলে ওই শিক্ষকদের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ানোর জন্য যে চিন্তা-চেতনা, একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের থাকা দরকার, রিসার্চ করা দরকার। সেটা তো নেই। সাত কলেজের বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারদের কোন ফ্রেমে আনবো এটা নিয়ে আপনাদের সাথে (সরকার) আমাদের আলোচনা করা দরকার।

আরও পড়ুন: দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পার্ট-টাইম জব ও ক্যারিয়ার সেন্টার চালুর তাগিদ মাহ্দী আমীনের

তিনি বলেন, একসময় সাত কলেজ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আলাদা হয়ে থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্ত হলো। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আলাদা হয়ে এখন সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি হয়েছে। তার মানে একটা সমস্যা থেকে আরেকটা সমস্যা তৈরি হলো। 

‘‘কোন আঙ্গিকে? জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় যেভাবে আছে ঠিক ওই কাঠামোর মধ্যে কিছু নাম চেঞ্জ করে বলল এই সাতটা কলেজ এটাচ কলেজ থাকবে। তার মানে একটা সমস্যা থেকে পরিত্রাণের জন্য আরেকটা বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে। কেন বলছি? যেহেতু আমি বাংলাদেশে অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয় কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে ও দেশের বাইরে পড়ার সুযোগ হয়েছে।’’

উপাচার্যের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, রাতারাতি সব ঠিক করা যাবে না। শিক্ষার মান বাড়াতে পারলে কোয়ালিটি এডুকেশন নিশ্চিত করা যাবে।

‘ভাইস চ্যান্সেলরস ডায়ালগ: শেপিং দ্য ফিউচার অফ হায়ার এডুকেশন’ শীর্ষক এই সংলাপে দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ জন উপাচার্যসহ নীতিনির্ধারক, জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা, দেশি-বিদেশি শিক্ষাবিদ, বিশেষজ্ঞ এবং ইউজিসি ও হিট প্রকল্পের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।