ইট-বোতল-ভাঙা আয়না দিয়ে বাসের সিট দখল, কুবি শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থী পরিবহনের বাসে যাত্রী উপস্থিত না থেকেও ইট, খালি বোতল, ভাঙা আয়না, মোবাইল কাভার, গাছের ডালসহ বিভিন্ন অপ্রাসঙ্গিক জিনিস রেখে আসন ‘রিজার্ভ’ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এতে আগে বাসে ওঠা শিক্ষার্থীরাও খালি আসনে বসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর যাতায়াতের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাস রয়েছে ১০টি। এর বাইরে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) ভাড়ায় পরিচালিত আরও ১০টি বাস রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব বাসে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী যাতায়াত করেন।
সম্প্রতি বাসে অপ্রাসঙ্গিক বিভিন্ন জিনিসপত্র রেখে আসন দখল করে রাখার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীদের একাংশ। তাদের অভিযোগ, কেউ কেউ নিজের উপস্থিতি ছাড়াই আগে থেকে আসন দখল করে রাখছেন। ফলে নিয়ম মেনে আগে বাসে ওঠা শিক্ষার্থীরা খালি আসন থাকা সত্ত্বেও সেখানে বসতে পারছেন না।
অপূর্ব দাস নামের এক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ব্যাগ বা বই-খাতার পরিবর্তে নেইলকাটার, ভাঙা আয়না, কাঁচি, মোবাইল কাভার, খালি বোতল, ইট কিংবা গাছের ডাল দিয়ে সিট ‘বুক’ করে রাখার প্রবণতা অন্য শিক্ষার্থীদের অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসকে ব্যক্তিগত রিজার্ভেশন ব্যবস্থায় পরিণত করার এই প্রবণতা বন্ধ হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আরেক শিক্ষার্থী উম্মে তাসমিয়া বলেন, শহর থেকে ক্যাম্পাসগামী একটি বাসে তিনি আগে উঠেও একটি খালি আসনে বসতে পারেননি। ওই আসনে আগে থেকেই একটি ব্যাগ রাখা ছিল। পরে ব্যাগটির মালিকের বন্ধু জানান, আসনটি অন্য একজনের জন্য রাখা হয়েছে। কিছুক্ষণ পর ওই শিক্ষার্থী বাসে উঠে আসনটিতে বসেন।
এ ঘটনাকে অনিয়ম উল্লেখ করে উম্মে তাসমিয়া প্রশ্ন তোলেন, শহর থেকে ক্যাম্পাসগামী বাসে আগে ওঠা যাত্রীই কি খালি আসনে বসার সুযোগ পাবেন না?
এনায়েত হোসাইন নামের আরেক শিক্ষার্থীও এ প্রবণতার সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, বই-খাতা বা প্রয়োজনীয় জিনিস দিয়ে আসন ধরে রাখার বিষয়টিও প্রশ্নসাপেক্ষ। সেখানে কাগজের টুকরা, মোবাইলের কাভার, গাছের পাতা, ইট-পাথর কিংবা অন্যান্য অপ্রাসঙ্গিক জিনিস দিয়ে আসন দখল করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনের নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে, শিক্ষার্থী বাসে একজন শিক্ষার্থী নিজের অনুপস্থিতিতে জিনিসপত্র রেখে আসন ধরে রাখতে পারেন কি না এমন প্রশ্নও উঠেছে। শিক্ষার্থীদের মতে, এ বিষয়ে পরিবহন ব্যবস্থাপনায় সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের প্রধান মো. মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে কোনো কিছু রেখে সিট দখল বা রিজার্ভ করার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম নেই। প্রশাসন কখনোই এমন কোনো নিয়ম চালু করেনি। স্বাভাবিক নিয়ম হলো—যে শিক্ষার্থী আগে আসবে, সে আগে বাসে উঠবে এবং সিটে বসবে। এখানে জুনিয়র-সিনিয়র বা আগে থেকে সিট ধরে রাখার কোনো সুযোগ নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাসের শৃঙ্খলা মূলত শিক্ষার্থীদের সচেতনতা ও নিয়ম মেনে চলার ওপর নির্ভর করে। শিক্ষার্থীরা সচেতন না হলে শুধু প্রশাসনের পক্ষে বিষয়টি শতভাগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে গঠনমূলক পরামর্শ গ্রহণযোগ্য। সার্বিক পরিবহন শৃঙ্খলা নিয়ে পরিবহন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. মাকসুদুল করিমের সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।’
পরিবহন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. মাকসুদুল করিম বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি আগেও দু-একবার আমার চোখে পড়েছে। তবে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তখন বিস্তারিতভাবে ভাবা হয়নি। এখন বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হওয়ায় গুরুত্ব বিবেচনায় আগামীকালই পরিবহন পুলের একটি সভা আহ্বান করছি। সভায় বাসের এই অনিয়ম ও সার্বিক শৃঙ্খলা নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’