বিএএসের ফেলো হলেন গ্রিন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন
বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, গবেষণা, উদ্ভাবন, উচ্চশিক্ষা ও মানবকল্যাণে দীর্ঘদিনের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের (BAS) সম্মানিত ফেলো নির্বাচিত হয়েছেন গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (জিইউবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন। রবিবার (১৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়টির জয়েন্ট রেজিস্ট্রার মো. মাজহারুল ইসলাম পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে স্নাতক, জাপানের শিগা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর এবং কিয়োটো ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে সিঙ্গাপুর, জাপান, জার্মানি ও চীনের খ্যাতনামা গবেষণাগারে পোস্টডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেন তিনি।
দীর্ঘ কর্মজীবনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণা, উচ্চশিক্ষা ও উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন অধ্যাপক শরীফ উদ্দিন। বিশেষ করে, ২০০৪ সালে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের চলাচলে সহায়তার জন্য তাঁর উদ্ভাবিত ‘Electronic Eye’ প্রযুক্তি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সাড়া ফেলে। তাঁর এই উদ্ভাবন নিয়ে CNN, BBC, Reuters ও The New York Times-এর মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন ও আলোচনা প্রকাশিত হয়।
অধ্যাপক শরীফ উদ্দিনের গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র কম্পিউটার ভিশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), মেশিন লার্নিং, ইমেজ প্রসেসিং এবং এগ্রো-বায়োমেডিক্যাল ইমেজিং। তাঁর প্রায় ৩০০টি গবেষণাপত্র Elsevier, Springer, IEEE ও ACM-এর মতো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রকাশনা প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হয়েছে। Google Scholar-এ তাঁর গবেষণাকর্মের সাইটেশন সংখ্যা ৭,৫০০ ছাড়িয়েছে। বিজ্ঞান ও গবেষণায় তাঁর দুটি পেটেন্টও রয়েছে।
তিনি Institution of Engineers, Bangladesh (IEB) ও Bangladesh Computer Society (BCS)-এর ফেলো এবং IEEE-এর Senior Member। পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত IEEE Access জার্নালের Associate Editor হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিনের BAS ফেলো নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টিকে তাঁর দীর্ঘদিনের গবেষণা, উদ্ভাবন ও উচ্চশিক্ষায় অবদানের গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এ অর্জন গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার অগ্রযাত্রায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।