যোগ্যতা ছাড়াই অবৈধ নিয়োগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বেতন ফেরত দেওয়ার নির্দেশ
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগে প্রভাষক পদে এক প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার গুরুতর অনিয়ম সামনে এসেছে। নিয়মবহির্ভূত এই নিয়োগের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে অডিট আপত্তিতে জানানো হয়েছে।
অডিট প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ৩১ অক্টোবর দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক পদের জন্য স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হয়েছিল জিপিএ ৫-এর মধ্যে ৪ অথবা সিজিপিএ ৪-এর মধ্যে ৩.৫০ (অথবা প্রথম শ্রেণী)। তবে এই শর্ত সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করে মো. এমদাদুল হক নামে এক প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল স্নাতক
পর্যায়ে CGPA ৪-এর মধ্যে ৩.২৬ এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে CGPA ৪-এর মধ্যে ৩.৩৯। বিজ্ঞপ্তির নির্ধারিত জিপিএ না থাকা সত্ত্বেও তাঁকে প্রভাষক পদে নিয়োগ দেওয়ায় একে ‘নিয়মের ব্যত্যয় ও আর্থিক ক্ষতি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
অডিট রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও মো. এমদাদুল হককে প্রভাষক পদে নিয়োগ প্রদান করা নিয়মসিদ্ধ হয়নি। নিয়মবহির্ভূতভাবে সম্পন্ন হওয়া এই নিয়োগটি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। অবৈধ নিয়োগের কারণে এ পর্যন্ত প্রদত্ত বেতন-ভাতা বা অর্থ আদায়পূর্বক কমিশন কে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে সৃষ্ট কোনো আর্থিক সংশ্লেষের বিষয়ে বর্তমানে বা ভবিষ্যতে কমিশন কোনো প্রকার দায়-দায়িত্ব বহন করবে না।
নিয়োগসমূহ নিয়মবহির্ভূত হওয়ায় এই খাতে কোনো বাজেট বরাদ্দও রাখা হয়নি। একই অডিট প্রতিবেদনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও একটি বড় প্রাতিষ্ঠানিক ঘাটতি প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ‘অনুমোদিত চাকরি বিধি’ নেই। যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক এই চাকরি বিধি দ্রুত অনুমোদনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নতুন হাতে আসা ইউজিসির ‘সংলগ্নী-০৩’ নথি অনুযায়ী, গত ২০২৫ সালের ১৬-১৭ নভেম্বর ইউজিসির বাজেট অ্যাসেসমেন্ট দল বেরোবির ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের সংশোধিত এবং ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের মূল বাজেট অ্যাসেসমেন্ট কার্য সম্পাদন করে। উক্ত অ্যাসেমেন্টকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শাখায় মোট ২৯টি গুরুতর অনিয়মের পর্যবেক্ষণ পরিলক্ষিত হয়।প্রতিবেদনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, এই পর্যবেক্ষণগুলোর বিষয়ে প্রতি অর্থবছরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়কে বারবার অনুরোধ এবং একাধিকবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আশানুরূপ কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। অদ্যাবধি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পর্যবেক্ষণসমূহের নিষ্পত্তিকল্পে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
এ বিষয়ে জানতে প্রফেসর ড. এমদাদুল হক কে একাধিকবার ফোনে কল দিলেও তিনি ফোন ধরেন নি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড.মো.ফেরদৌস রহমান বলেন,এ বিষয়ে একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটি প্রশাসনে রিপোর্ট জমা দিয়েছে। সিন্ডিকেটে উঠলে তখন জানা যাবে। আমি ত দেখি নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড.মো.শওকাত আলীকে একাধিকবার ফোন করলেও সাড়া পাওয়া যায় নি।