ছাত্রদলের আহ্বায়ককে চিনতে না পারায় শিক্ষার্থীকে মারধর
সরকারি তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ককে চিনতে না পারায় এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমাম হোসেনের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এ সময় তাকে ‘ছাত্রলীগ ও শিবিরের লোক’ ট্যাগ দিয়ে মারধর এবং তার মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
সোমবার (১০ আগস্ট) কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী এ এম সুজন তিতুমীর কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। সুজনের অভিযোগ, তাকে মারধরের ঘটনায় আঁখি হল ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহিয়ান মাসুম ও আহ্বায়কের অনুসারীরা জড়িত ছিলেন। এ সময় কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমাম হোসেন নিজেও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
সুজন জানান, কলেজে বাইক রেখে ক্লাসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রশাসনিক ভবনের সামনে যাওয়ার সময় কয়েকজন ছাত্রদলের নেতাকর্মী তাকে পেছন থেকে টেনে নিয়ে হেলমেট খুলতে ও পরিচয় দিতে বলেন। তিনি ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের এবং বর্তমানে মাস্টার্সে পড়ছেন বলে জানান। পরে বিভাগ জানতে চাইলে সমাজকর্ম বিভাগের কথা বলেন।
এরপর একজনকে দেখিয়ে তাকে ‘ভাইকে চেনেন কি না’ জানতে চাওয়া হয়। তিনি ওই ব্যক্তিকে চেনেন না জানালে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন সুজন। এ সময় মাহিয়ান মাসুম তার বাম কানের নিচে কয়েকবার আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে কানে ব্যথা ও কম শোনার সমস্যা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
সুজনের অভিযোগ, মারধরের পর তাকে কলেজের মসজিদের সামনে নিয়ে গিয়ে ব্যাগ তল্লাশি করে মোবাইল ফোন ও সঙ্গে থাকা ক্যামেরা কেড়ে নেওয়া হয়। তাকে 'লীগের লোক' ও 'শিবিরের লোক' ট্যাগ দিয়ে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে তার ফোনে কোনো কিছু না পাওয়ায় আবার প্রশাসনিক ভবনের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কয়েকজন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। তখন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শিক্ষকদের কাছে সুজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করেন।
সুজন বলেন, ‘আমার চুল বড় থাকায় শিক্ষকদের কাছে অভিযোগ করা হয় এবং ক্যামেরা দেখিয়ে বিভিন্ন গোপন ভিডিও ধারণের অভিযোগও তোলা হয়। এ সময় শিক্ষকরা নিশ্চুপ ছিলেন। পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা চলে যাওয়ার পর এক শিক্ষক আমাকে ক্যাম্পাসে আরও ভালোভাবে চলাফেরা, সবার সঙ্গে কথা বলা ও পরিচিত হওয়ার পরামর্শ দেন। পরে তারা আমার মোবাইল ও ক্যামেরা ফেরত দেন।’
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আঁখি হল ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহিয়ান মাসুমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
জানতে চাইলে কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমাম হোসেন বলেন, 'এ বিষয়ে আমি মন্তব্য করবো না।'