১১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩১

উপাচার্যের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীর গায়েবানা জানাজায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা   © টিডিসি ফটো

সড়ক দুর্ঘটনায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত নিহতের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ, সড়ক সংস্কার ও নিরাপদ সড়কসহ বিভিন্ন দাবিতে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন শিক্ষার্থীরা। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার অবরোধের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দাবিগুলো পূরণের আশ্বাস দিলে রাত ১০টার দিকে কর্মসূচি তুলে নেন তারা। ফলে মহাসড়কটিতে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) ইয়াসিন আরাফাতের গায়েবানা জানাজা শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে অবস্থান নেন। এতে মহাসড়কের দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট ও জনদুর্ভোগ। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর রাত ১০টার দিকে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা।

অবরোধ শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘শিক্ষকদের অংশগ্রহণের আজকের আন্দোলন সফল হতে যাচ্ছে। আমরা নিহত ব্যক্তির একটি অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিলাম, আমাদের সে দাবিটি প্রশাসন মেনে নিয়েছে। রাস্তা সংস্কারের একটি দাবি আমাদের ছিল, সে দাবিটি পূরণের জন্য বরিশাল রোড'স অ্যান্ড হাইওয়ে কে আমরা নির্দিষ্ট সময় বেধে দিয়েছি, তারা আমাদের কে আশ্বস্ত করেছে। এরপরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে রবিবার টু বৃহস্পতিবার আধা ঘণ্টা পর পর বিকাল ৫টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সার্বক্ষণিক বাস চলাচল করবে। এবং শুক্র ও শনিবার সকাল ৭টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত আধা ঘণ্টা পর পর বাস চালু থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছে প্রশাসন। যেটা আগামীকাল কাল থেকে চলবে।’

তারা আরও বলেন, ‘তিনটি পয়েন্টে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন ও ফুটওভার ব্রিজের দাবিটিও মেনে নিছে। এসকল কাজ চাইলে শিক্ষার্থীরাও তদারকি করতে পারবে।’

শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মামুন অর রশিদ ‘দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস’কে বলেন, ‘আমরা নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। বিআরটিসি থেকে তার পরিবারের একজন সদস্যের চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া সড়ক মেরামতের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষক কাজ করবে। আমরা সবসময় শিক্ষার্থীদের পাশে আছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘নিহতের বাবার ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আমার ও প্রশাসনের কথা হয়েছে। তাদের কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। তারা আমাদের কাছে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।’

এর আগে রোববার (৯ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন দপদপিয়া সেতু এলাকায় বিআরটিসি বাস ও যাত্রীবাহী মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে একজন নিহত ও অন্তত চারজন আহত হন। আহতদের মধ্যে ছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন ইয়াসিন আরাফাত রাত ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।

রবিবার রাতে ইয়াসিন আরাফাতের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে নিরাপদ সড়কসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। সোমবার গায়েবানা জানাজা শেষে সেই আন্দোলন আরও জোরালো হয় এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।

প্রশাসনের আশ্বাসের পর অবরোধ তুলে নেওয়া হলেও শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, প্রতিশ্রুত দাবিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়টি তারা নজরদারিতে রাখবেন।