জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন প্রক্টর নিয়োগ নিয়ে গুঞ্জন, আলোচনায় চার শিক্ষক
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) গত ৪ আগস্ট ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের সংঘর্ষের পর বর্তমান প্রক্টর অধ্যাপক ড. নাসির উদ্দীনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় তার পদত্যাগসহ হামলার বিচার দাবি করে জকসু, ছাত্রসংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেছেন। বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষার্থীরাও প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন।
এ ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমে প্রক্টরের পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছেন শিক্ষার্থী ও কয়েকটি ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা ৪ শিক্ষকের মধ্যে থেকে প্রক্টর নিয়োগ দিতে ফেসবুকে পোস্ট করছেন তারা। তবে নতুন করে প্রক্টর নিয়োগের বিষয়ে জানেন না বলে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন।
এ পরিস্থিতিতে বর্তমান প্রক্টরকে সরিয়ে নতুন কাউকে প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে প্রশাসনের ভেতরে আলোচনা চলছে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। এরই মধ্যে পরবর্তী প্রক্টর হিসেবে কয়েকজন শিক্ষকের নাম আলোচনায় এসেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নতুন প্রক্টর নিয়োগ নিয়ে উপাচার্য দপ্তরে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে। আলোচনায় থাকা শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক মেহেদি হাসান জুয়েল, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ড. কে এ এম রিফাত হাসান, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক আনিসুর রহমান এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক নঈম সিদ্দিকী।
জানা যায়, আলোচনায় থাকা চার শিক্ষক ও এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে নান অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনিসুর রহমান আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. নঈম সিদ্দিকী, ৪ আগস্টে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষার্থী ও ছাত্রসংগঠনের নেতারা।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নঈম সিদ্দিকী। তিনি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে তিনি বর্তমানে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও নিয়েছেন। প্রক্টরের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এখনো কোনো সংবাদ পাইনি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত নেবে তা মেনে নেওয়া হবে।’
মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ও সহকারী প্রক্টর মেহেদি হাসান জুয়েলের নামও আলোচনায় রয়েছে। সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও তার কার্যক্রম ও ভূমিকা নিয়ে কোনো ধরনের প্রশ্ন তুলছেন না ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতাকর্মীসহ শিক্ষার্থীরা।
এ ছাড়া আলোচনায় আছেন ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. নাসির উদ্দীন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইউট্যাবের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ছাত্রশিবিরের সাবেক সাথী ছিলেন বলে ছাত্রদল ও শিবির নেতারা জানান। এ ছাড়াও টঙ্গীর তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিলেন। সেখানেই ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সহকারী সহকারী প্রক্টর বলেন, ‘তিনজনের নাম আলোচনায় এসেছে বলে শুনেছি। তবে সিদ্ধান্ত তো উপাচার্য নেবেন। এখনো বিষয়টি চূড়ান্ত হয়নি।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘প্রক্টর নিয়োগের বিষয়ে আপাতত কোনো ধরনের চিন্তা-ভাবনা নেই এবং কোনো ধরনের আলোচনাও হয়নি। সামাজিক মাধ্যমে প্রক্টর নিয়োগ দেওয়া-নেওয়া নিয়ে নানা আলোচনা চলছে, এ ধরনের নানা পোস্ট দেখছি। বলতে পারেন আমি এসব বিষয়ে কোনো কিছুই জানি না।’