১০ আগস্ট ২০২৬, ১৪:০৯

বেরোবিতে বাংলা বিভাগে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, বাতিলের সুপারিশ ইউজিসির

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়  © সংগৃহীত

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) বাংলা বিভাগে একটি প্রভাষক পদের বিপরীতে দুজনকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ইউজিসির বাজেট অ্যাসেসমেন্ট দলের তদন্তে অনিয়মটি ধরা পড়ার পর নিয়মবহির্ভূত অতিরিক্ত নিয়োগ বাতিল এবং এ পর্যন্ত দেওয়া বেতন-ভাতা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিশন।

ইউজিসির বাজেট অ্যাসেমেন্ট দলের তদন্তে এই জালিয়াতি ধরা পড়ে। চিঠিতে দেখা যায়, গত ১৬-১৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে ইউজিসির একটি দল বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের সংশোধিত এবং ২০২৬-২০৭ অর্থবছরের মূল বাজেট অ্যাসেসমেন্ট কাজ সম্পাদন করে। ওই কার্যক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়টির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় মোট ২৯টি গুরুতর পর্যবেক্ষণ বা অনিয়ম চিহ্নিত করা হয়।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই পর্যবেক্ষণগুলো নিষ্পত্তির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বারবার তাগিদ দেওয়া হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগ বরাবর এ অনিয়মের বা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একটি স্বপক্ষে বক্তব্য পাঠায়। তারপরও চলতি বছরের ১৫ জুন এই অনিয়মের বিষয়টি আবার তুলে ধরে।

ইউজিসির নির্দেশনা বারবার অমান্য করায় ক্ষুব্ধ হয়ে কমিশন বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদা অনুযায়ী, ২০২৫-২৬-এর সংশোধিত এবং ২০২৬-২৭-এর মূল বাজেটের বেশ কিছু খাতের বরাদ্দ বাতিল বা কমিয়ে দিয়েছে।ইউজিসির দেওয়া ২৯টি পর্যবেক্ষণের মধ্যে ১ নম্বর ক্রমিকেই রয়েছে বাংলা বিভাগের এই নিয়োগ কেলেঙ্কারি। 

তথ্যে দেখা যায়, ২৩ অক্টোবর ২০২৪ তারিখের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলা বিভাগের জন্য মাত্র ১টি (স্থায়ী) প্রভাষক পদের কথা উল্লেখ ছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সম্পূর্ণ অবৈধ ও অনিয়মিতভাবে ২ (স্থায়ী) জন প্রভাষককে নিয়োগ দেয়। শিক্ষক দুজন হলেন গোলাম রব্বানী ও মনির হোসেন। এই অতিরিক্ত নিয়োগের পেছনে বার্ষিক ২.৭৭ লাখ টাকার অননুমোদিত আর্থিক ব্যয় তৈরি হয়েছে। সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত হওয়ায় এই খাতের জন্য ইউজিসি কোনো বাজেট বরাদ্দ রাখেনি।

এই চরম অনিয়মের পরিপ্রেক্ষিতে ইউজিসি অ্যাসেসমেন্ট দল তাদের চূড়ান্ত সুপারিশে জানিয়েছে, নিয়মবহির্ভূত এই অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগটি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে এ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয় তহবিল থেকে প্রদত্ত যাবতীয় অর্থ বা বেতন-ভাতা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত (আদায়) নিয়ে এসে কমিশনকে দ্রুত অবহিত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইউজিসি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় বাজেট প্রাপ্তির স্বার্থে এই ২৯টি পর্যবেক্ষণ অবিলম্বে নিষ্পত্তি করতে হবে। অন্যথায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদার সঙ্গে কমিশনের বরাদ্দ প্রদানের দূরত্ব ক্রমান্বয়ে আরও বৃদ্ধি পাবে, যার দায় সম্পূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেই নিতে হবে।

এ বিষয়ে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড.নিতাই কুমার ঘোষ বলেন, ‘আমার কাছে এই বিষয়ে কোনো এভিডেন্স নেই। তাই আমি এখন কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।’

অনিয়মের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার  অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, ‘বিষয়টা এমন ছিল না। দুইটা বিজ্ঞপ্তিতে দুইটা নিয়োগ হয়েছে। আমরা  ইউজিসিকে উত্তর দিয়েছি। বিষয়টি সময় নিয়ে আমরা তোমাদের উত্তর দেব। দুইটা বিজ্ঞপ্তি দুটো ভিন্ন সময়ে হয়েছিল।’ যদি দুটি ভিন্ন সময় হয়ে থাকে, তাহলে ইউজিসি এই বিষয়টিকে অনিয়ম কেন বললেন, এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘আমরা ইউজিসি থেকে যে টিম এসেছিল, তারা হয়তো বিষয়টি জানত না।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলীকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।