সড়ক দুর্ঘটনায় ববি শিক্ষার্থী আহত, ৪ দফা দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সংলগ্ন দপদপিয়া ব্রিজে বিআরটিসি বাস ও মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত আহত হওয়ার প্রতিবাদে এবং চার দফা দাবিতে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। রবিবার (৯ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করেন।
এর আগে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন দপদপিয়া ব্রিজের ওপর বিআরটিসি বাস ও মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত ও অন্তত চারজন আহত হন। আহতদের মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাতও রয়েছেন। তাকে চিকিৎসার জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়।
দুর্ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনসহ বিভিন্ন দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেন।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে চার দফা দাবি জানান তারা। দাবিগুলো হলো— আহত শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাতের সম্পূর্ণ চিকিৎসা ব্যয় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বহন করতে হবে; আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মহাসড়ক মেরামত করতে হবে; বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রূপাতলী পর্যন্ত সার্বক্ষণিক বাসের ব্যবস্থা করতে হবে এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই পাশে ফুটপাত চালু করতে হবে।
আন্দোলনরত ববি বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী রাজিব বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের দাবি মানা না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন চলবে। আমরা চাই, আমাদের সব দাবি দ্রুত মেনে নেওয়া হোক।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ভূমিকা সরকার বলেন, আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েনসহ সড়ক সংস্কারের জন্য বিভিন্ন দাবি তুললেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো কর্ণপাত করেনি। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে রক্তপাত না হওয়া পর্যন্ত কোনো কিছু সফল হয় না। আজকে দুর্ঘটনায় যে শিক্ষার্থী মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে, তার সমস্ত চিকিৎসার খরচ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বহন করতে হবে। বর্তমানে সড়কের অব্যবস্থাপনা থেকে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ রাখার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের যেসব দাবি-দাওয়া রয়েছে, সেগুলো মেনে নিতে হবে।
এ বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. গাজী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে সব দাবি-দাওয়া বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যত দ্রুত সম্ভব মেনে নেবে। আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে আলোচনা করব এবং কীভাবে দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যাগুলোর সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।