কলেজ মাঠে কচু গাছ রোপণ করে শিক্ষার্থীদের ভিন্নধর্মী প্রতিবাদ
সরকারি বিএম কলেজের বাণিজ্য ভবন মাঠে কচু গাছ রোপণ করে ভিন্নধর্মী প্রতিবাদ প্রকাশ করেছেন কলেজের একঝাঁক শিক্ষার্থী। আজ শনিবার (৮ আগষ্ট) বিকেলে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের বাণিজ্য ভবন মাঠে কচু গাছ রোপণ করে এই ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়।
শিক্ষার্থীরা জানান, গত ২০২৫ সালে ক্যাম্পাস সংস্কারের দাবিতে তারা ৫ দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন করলে কলেজ প্রশাসন কতৃক দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়। যার মধ্যে অন্যতম দুটি দাবি ছিল জলাবদ্ধতা নিরসন করা ও ড্রেজিং করে বালু দিয়ে মাঠ ভরাট করা। যাতে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত খেলাধুলা করতে পারে। কিন্তু বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরও দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে দ্বিতীয় দফায় গত মে মাসে উক্ত দুটি দফাসহ ১০ দফা আন্দোলন করে। এরপরও জলাবদ্ধতা নিরসন করা ও বালু দিয়ে মাঠ ভরাট করে শিক্ষার্থীদের খেলার ব্যাবস্থা না করায় শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে আজ এই ব্যাতিক্রমধর্মী প্রতিবাদ করেন বলে জানান।
কলেজটির অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শাহাবুদ্দিন মিয়া বলেন, ‘প্রশাসন কলেজ সংস্কারের ৫ দফা দাবি মেনে নিয়েছিল। কিন্তু প্রতিশ্রুতির পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বাস্তবে সংস্কারের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। তাই প্রশাসনের প্রতিশ্রুতির প্রতি প্রতীকী প্রতিবাদ জানিয়ে বাণিজ্য ভবন মাঠে কচুগাছ রোপণ করেছি। এটি শুধু কচুগাছ রোপণ নয়; প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থতার বিরুদ্ধে আমাদের নীরব প্রতিবাদ। প্রশ্ন একটাই—দাবি মেনে নেওয়ার পরও যদি বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে শিক্ষার্থীরা আর কাকে বিশ্বাস করবে? প্রতিশ্রুতি নয়, এবার চাই দৃশ্যমান সংস্কার।’
বিজ্ঞান বিভাগের ৩য় বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী তানভীর ইসলাম বলেন, ‘আজকে সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের পাঁচ দফা ক্যাম্পাস সংস্কার দাবি উপস্থাপনের এক বছর। দীর্ঘ এই সময়ে কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন বা দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগ দেখা যায়নি। যার জন্য আমরা খুবই হতাশ, এর প্রতিবাদস্বরূপ একঝাঁক সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আজ কলেজের বাণিজ্য ভবনের মাঠে " কচু গাছ" লাগিয়ে এক ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। কলেজ প্রশাসনের উদাসীনতা ও স্থবিরতার বিরুদ্ধে এটি আমাদের প্রতীকী প্রতিবাদ। আমরা অবিলম্বে এই পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়ন এবং ক্যাম্পাসের সার্বিক সংস্কারের জোর দাবি জানাচ্ছি।। দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে পূনরায় আন্দোলনের নামার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এ বিষয়ে জানার জন্য কলেজ অধ্যক্ষের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।