এক ঘণ্টার মধ্যে তিন কর্মসূচির ঘোষণা জকসু-ছাত্রদল-ঐক্যবদ্ধ জগন্নাথের, হুঁশিয়ারি ছাত্রশক্তিরও
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একই জায়গায় ও একই সময়ে তিনটি সংগঠন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় আজ বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও কর্মসূচির পালন করার ঘোষণা দিয়েছে জকসু ও ঐক্যবদ্ধ জগন্নাথ। এদিকে কর্মসূচিকে ঘিরে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে জকসু, জকসু জিএস ও ছাত্রশক্তি।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, জকসু দুপুর ১২টায় শহীদ রফিক ভবনের সামনে আহত ও অসুস্থ শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাসহায়তা নিশ্চিত করতে অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর কর্মসূচির আয়োজন করেছে।
একই স্থান ও কাছাকাছি সময়ে ‘ঐক্যবদ্ধ জগন্নাথ’ ব্যানারে সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীদের হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলেরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রচারণা চালানো হয়েছে।
এরপর একই স্থানে ছাত্রদল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেয়। সংগঠনটির বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করা হয়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদের (জকসু) এজিএস মাসুদ রানা বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়ে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীদের। এটি কোনো অছাত্র, বহিরাগত কিংবা টেন্ডারবাজদের নয়। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও ধৈর্য ধরে থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সব যৌক্তিক দাবি আদায় হবে।
তিনি আজকের কর্মসূচি হিসেবে সকাল সাড়ে ১১টায় উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি প্রদান এবং দুপুর ১২টায় অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তরের ঘোষণা দেন। এ কর্মসূচিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের উপস্থিত থাকার আহ্বানও জানান।
স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন, অছাত্র ও বহিরাগতদের ব্যবহার করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানো হলে তার সম্পূর্ণ দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বহন করতে হবে।
একই ধরনের স্ট্যাটাস দিয়েছেন জকসু জিএস ও জবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফ। তিনিও নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। ক্যাম্পাসকে শিক্ষার্থীদের উল্লেখ করে বহিরাগত ও অছাত্রদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার কথা বলেন। একই সঙ্গে সকাল সাড়ে ১১টায় উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি প্রদান এবং দুপুর ১২টায় অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তরের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের উপস্থিত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
আব্দুল আলিম আরিফও বলেন, অছাত্র ও বহিরাগতদের ব্যবহার করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেই নিতে হবে।
এদিকে জবি শাখা ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহীন মিয়া বলেন, বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে যদি কোনো সহিংসতা ঘটে এবং একজন সাধারণ শিক্ষার্থীও ক্ষতিগ্রস্ত হন, তাহলে তার দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিতেই হবে।
এদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সর্দার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘প্রিয় জবিয়ান্স, বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক কার্যক্রম, ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য সবকিছুই প্রতিদিনের ন্যায় স্বাভাবিকভাবেই চলবে। আপনারা সবাই নির্ভয়ে ক্যাম্পাসে আসুন। কোনো দেশবিরোধী শক্তি যদি মবতন্ত্র কায়েম করতে চায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার অপচেষ্টা করে, তাহলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল আপনাদের নিরাপত্তার স্বার্থে অতীতের ন্যায় সব সময় আপনাদের পাশে থাকবে, ইনশাআল্লাহ।’
অন্যদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলও পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। সংগঠনটির সদস্য (সহ-দপ্তর সম্পাদক) মু. ফজলে রাব্বি স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, দেশব্যাপী শিবিরের অব্যাহত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ক্যাম্পাসে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দিয়ে শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা এবং মবতন্ত্রের বিরুদ্ধে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করবে ছাত্রদল।
আরও পড়ুন: জবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ
বিবৃতিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ভাষা শহীদ রফিক ভবনের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
এর আগে বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এক বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করে। একই স্থান ও কাছাকাছি সময়ে তিনটি পৃথক সংগঠনের কর্মসূচি ঘোষণার পর সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৬ আগস্ট একই স্থানে ও একই সময়ে তিনটি সংগঠন কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ থাকবে।