০৫ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৩২

আমরা এমন বাংলাদেশ চাই যেখানে হেলমেট বাহিনী তৈরি হবেনা: যবিপ্রবি উপ-উপাচার্য 

আমরা এমন বাংলাদেশ চাই যেখানে হেলমেট বাহিনী তৈরি হবেনা: যবিপ্রবি উপ-উপাচার্য   © সংগৃহীত

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের(যবিপ্রবি) উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান বলেছেন, ‘আমরা স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে চাই- যেখানে কাউকে হুমকি প্রদান করা হবেনা, যেখানে কোনো ফ্যাসিস্ট তৈরি হবেনা, হেলমেটধারী কোনো বাহিনী তৈরি হবেনা, স্বাধীনভাবে নিজের মতামত প্রকাশ করতে পারবো এবং আমাদের সন্তানেরা কোথায় পড়ে এই নিয়ে কেউ থ্রেট দিবেনা।’ 

তবে সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে হয়তো সময় লাগবে, কারণ সমগ্র বাংলাদেশের অর্থনীতি ধ্বংস করে দিয়ে গেছে তাঁরা। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রিজার্ভের টাকাও পাচার হয়েছে। তৎকালীন গর্ভনর রিজার্ভ মানি চুরির রিপোর্ট নিজের চেয়ারের নিচে রেখে দিয়েছিলেন। জাতীয় অর্থনীতি সচল করতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা দরকার।

৫ আগস্ট (বুধবার) সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফ হোসেন গ্যালারীতে ‘জুলাই ২০২৪: গণআকাঙ্ক্ষা, সংগ্রাম ও নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যবিপ্রবির উপ-উপাচার্য এসব কথা বলেন। 

জুলাই গনঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে পতাকা উত্তোলন, বেলুন ও পায়রা উড়ানো, কেক-কাটা, জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, আবাসিক হলগুলোতে গণভোজ ও জুলাই বিপ্লবে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া-মাহফিলসহ দিনব্যাপী নানা আয়োজন করে যবিপ্রবির প্রশাসন। জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়। প্রধান ফটকে থেকে বিজয় র‍্যালি আরম্ভ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ শেষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একাডেমিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। এরপরে কেন্দ্রীয় গ্যালারীতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, জুলাই আমাদেরকে নতুনভাবে স্বাধীনতার সংজ্ঞা শিখিয়েছে। কিন্তু আমরা জুলাইকে সঠিক পন্থায় ব্যবহার করতে পারিনি। জুলাই নিয়ে কেউ ব্যবসা শুরু করলে সেই জুলাই তার স্বকীয়তা হারাবে এবং রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা টেকসই হবে না। 

জুলাইয়ের স্মৃতিচারণে যবিপ্রবির উপ-উপাচার্য শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, আমার হাতে একটা ছাতা নিয়ে ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপনারা দেখে থাকবেন। আবুসাঈদ যেমন বুক চিতিয়ে বলেছিলো সেদিন  মানববন্ধনে পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে ঠিক তেমনিভাবে বলেছিলাম আমার ছাত্রদের যেহেতু গুলি করতে পেরেছেন তাহলে আমাদেরও গুলি করেন। যেখানে ছাত্রদের নিশ্চয়ইতা নেই সেখানে শিক্ষক হিসেবে আমাদের বেঁচে থাকার কোনো প্রয়োজন নেই। এই কথার পর থেকে আমাকে নানা ভাবে হয়রানি করা শুরু হয়। দিনে ৫০ বার কল আসতো। একবার পুলিশ, একবার ডিবি তো এনএসআই ডিজিএফআই। আমার ছেলে-মেয়েদের জীবন নিয়ে হুমকি দেওয়া হতো। আমার পরিবারকে বানানো হয়েছিলো স্বাধীনতা বিরোধী অথচ আমার বাবা ভারত থেকে ট্রেনিং নিয়ে দেশে এসে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। আগে একটা সময় ছিলো মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি আরেকটা বিপক্ষের শক্তি। এখনো দেখবেন জুলাইয়ের পক্ষের শক্তি বিপক্ষের শক্তি আছে। আমরা কোনো সপক্ষের বিপক্ষের শক্তি চাইনা। আমরা আমাদের নেতা যেভাবে বলেছেন সবার আগে বাংলাদেশ,  আমরা সেই বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি।  

যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীরের সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও শিক্ষার্থীরা। ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. রাফিউল হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে জুলাই আন্দোলনে শহীদ আল আমিনের পরিবারকে সম্মাননা স্মারক ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

আলোচনা সভা শেষে যবিপ্রবির কেন্দ্রীয় মসজিদে বাদ জোহর জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা ও আহত বীরদের আশু সুস্থতা কামনায় দোয়া-মোনাজাত করা হয়। এছাড়া এদিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়। এতে মোট ৬ টি হলের মোট ৩ হাজার ২২০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।