আবারও ক্ষমতার রাজনীতির মঞ্চ হয়ে উঠছে বিশ্ববিদ্যালয়, শঙ্কা অস্ত্রের ঝনঝনানি ফেরার
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের তরুণ সমাজ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি, সহনশীলতা, গণতান্ত্রিক চর্চা এবং সহাবস্থানের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ, হল দখল, আধিপত্য বিস্তার ও প্রতিপক্ষকে দমনের অভিযোগ সে আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ক্যাম্পাসগুলোয় অস্ত্রের ঝনঝনানি শুরুর শঙ্কাও তৈরি হয়েছে বিভিন্ন মহলে।
তারা বলছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষাঙ্গনে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু কয়েক মাসের ব্যবধানে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ, মিছিল-পাল্টা মিছিল, হামলা ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটছে। ব্যবহার হয়েছে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রের। প্রশ্ন উঠছে—শিক্ষাঙ্গন কি আবার পুরোনো ধারার ক্ষমতার রাজনীতিতে ফিরে যাচ্ছে?
গত কয়েক মাসে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে সংঘর্ষের ঘটনাগুলোর সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান নিলে দেখা যায়, সংঘর্ষের কারণ—কমিটি গঠন, আধিপত্য বিস্তার, হল নিয়ন্ত্রণ, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের পাশাপাশি ব্যক্তিকেন্দ্রিক দ্বন্দ্বও অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। এসব ক্ষেত্রে দেশীয় ধারালো অস্ত্র, লাঠিসোটাসহ বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করেছে পক্ষগুলো। যদিও জুলাই আন্দোলনের চেতনা ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম দাবিগুলো ছিল-দলীয় প্রভাবমুক্ত শিক্ষাঙ্গন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নিরাপদ ক্যাম্পাস ও অংশগ্রহণমূলক ছাত্ররাজনীতি।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘর্ষে জড়িয়েছে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর খোদ সেই অভ্যুত্থান বার্ষিকীর আগের দিন দুই ছাত্রসংগঠনের মধ্যে এটাই সবচেয়ে বড় সংঘর্ষ। পুরান ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বেলা ১১টার দিকে এ সংঘর্ষের শুরু। পরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ঢাকা কলেজ ও সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়ায়।
গত কয়েক মাসে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে সংঘর্ষের ঘটনাগুলোর সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান নিলে দেখা যায়, সংঘর্ষের কারণ—কমিটি গঠন, আধিপত্য বিস্তার, হল নিয়ন্ত্রণ, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের পাশাপাশি ব্যক্তিকেন্দ্রিক দ্বন্দ্বও অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। এসব ক্ষেত্রে দেশীয় ধারালো অস্ত্র, লাঠিসোটাসহ বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করেছে পক্ষগুলো। যদিও জুলাই আন্দোলনের চেতনা ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম দাবিগুলো ছিল-দলীয় প্রভাবমুক্ত শিক্ষাঙ্গন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নিরাপদ ক্যাম্পাস ও অংশগ্রহণমূলক ছাত্ররাজনীতি।
তিন জায়গায় সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। উত্তেজনা চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। জগন্নাথের এ সংঘর্ষে পার্শ্ববর্তী কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সহরোওয়ার্দী কলেজের ছাত্ররাও জড়িয়ে পড়েন বলে জানা যায়। এছাড়া এ সংঘর্ষ সংক্রমিত হয়ে ঢাকা কলেজেও ছড়িয়ে পড়ে। আজ বুধবারও রাজধানীর তিতুমীর কলেজ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এর আগে গেল সোমবার রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়েও (বেরোবি) ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরপর দুই দিনে দেশের একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল, শিবির, ছাত্র শক্তিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা সামনে এসেছে। এতে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন মহলে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলো ছাত্রলীগের দখলে ছিল। ছাত্রদল ও শিবির প্রকাশ্যে ক্যাম্পাসে গেলে হামলার শিকার হতো। বর্তমানে আওয়ামী লীগের এ ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাকা, চট্টগ্রাম, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বেশিরভাগ পদে জয়ী হয় শিবির–সমর্থিত প্যানেল। ছাত্রদলের ভরাডুবি হয়। ছাত্রদলের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ আমলে জামায়াতের ছাত্র সংগঠন শিবির নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে ‘গুপ্ত’ থেকে ‘ছাত্রলীগের ছাতার’ নিচে নিজেদের সংগঠন গুছিয়েছে। কিন্তু ছাত্রদলকে ক্যাম্পাসের বাইরে থাকতে হয়েছে। যে কারণে সাধারণ ছাত্রদের সংস্পর্শে এ সংগঠন যেতে পারেনি। সাম্প্রতিক সময়ে শিবিরকে কোণঠাসার চেষ্টা করছে ছাত্রদল। তারই অংশ হিসেবে ইস্যু তৈরি হলেই সংগঠন দুটি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে।
মঙ্গলবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভা চলছিল। সে সময় জবি কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) কয়েকজন প্রতিনিধি, জাতীয় ছাত্রশক্তি এবং ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, কেরানীগঞ্জে অস্থায়ী আবাসন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টারের চিকিৎসাসেবা বাড়ানোর দাবিতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিলনায়তনে প্রবেশের চেষ্টা করেন।
‘ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করার প্রশ্ন নয়, বরং গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক ছাত্ররাজনীতি নিশ্চিত করা জরুরি। সহিংসতা কখনো রাজনৈতিক চর্চার অংশ হতে পারে না’ -অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মী ও প্রক্টরিয়াল বডি তাদের বাধা দেন। এরপর তারা মিলনায়তনের সামনে প্ল্যাকার্ড নিয়ে বসে পড়েন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ। ছাত্রদল বলছে, জুলাইয়ের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের দাবি নিয়ে না যেতে তারা অনুরোধ করেছিল। কিন্তু জকসু, ছাত্রশক্তি এবং ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা তা শুনতে চাননি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান বলেন, ‘ইউজিসির চেয়ারম্যান মামুন আহমেদকে অপমানিত করার জন্য ছাত্রশিবির ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলো প্রস্তুতি নিয়েছিল। তাদের বিনয়ের সঙ্গে সরে যেতে বলা হয়েছিল। তারা সরেনি। একপর্যায়ে এগিয়ে এলে মারামারি হয়। এতে ছাত্রদলের অনেক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।’
ঘটনার কয়েকটি ভিডিও বিশ্লেষণ করে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুপুর ১২টার দিকে সেমিনার শেষ হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে জকসুর সমাজসেবা সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের প্রচার সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমানের ওপর কয়েকজন ছাত্রদল নেতা হামলা করেন। সেখানে শিবিরের নেতা-কর্মীরাও ছিলেন। তখন দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
একপর্যায়ে শিবিরের নেতা-কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে আশ্রয় নিলে সেখানেও হামলা চালান ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। এ সময় ছাত্রশক্তির বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীকেও মারধর করা হয়। এদিকে এ ঘটনার বিচার চেয়ে উপাচার্য ভবনের সামনে মানববন্ধন করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের নেতা-কর্মীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় প্রবেশদ্বারের সামনে তাদের কয়েকজনকে মারধর করেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংঘর্ষে আহত শিবির ও ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মীরা ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানেও তাদের ওপর হামলা হয়। এরপর দফায় দফায় হামলার ঘটনা ঘটে। এতে কবি নজরুল কলেজ ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদল এবং বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এদিকে রাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জরুরি এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়, বুধবার ও আগামীকাল বৃহস্পতিবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তা দেবে। সংঘর্ষের নেপথ্যে কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেনা ৭ একর জমিতে ১০ তলা ভবন নির্মাণের দরপত্রকে দায়ী করছেন কেউ কেউ।
‘জুলাই-পরবর্তী প্রজন্মের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা। পুরনো সংঘাতের ধারা অব্যাহত থাকলে পরিবর্তনের সুযোগ নষ্ট হবে’ -অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক
বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র বলছে, কারাগারের পাশের জমিতে ১ হাজার ৬০০ আসনের অস্থায়ী একটি হল করার কথা ছিল। কিন্তু প্রশাসন সেখানে ৬০০ আসনের স্থায়ী ১০ তলা ছাত্র হল করার দরপত্র আহবান করেছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীরা দ্রুত অস্থায়ী আবাসন চাইছিলেন।
এদিকে শিবিরের আলিয়া মাদ্রাসা শাখার সভাপতি আবদুল আলিম অভিযোগ করেন, দুপুরে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা হলে ঢুকে তাঁদের মারধর করেন এবং কয়েকটি কক্ষে তালা লাগিয়ে দেন। পরে শিবিরের নেতা-কর্মীরা তাঁদের ধাওয়া দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে ছাত্রদলের আলিয়া মাদ্রাসা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক পদপ্রার্থী সাদ চৌধুরী বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে শিবির হলের কয়েকটি কক্ষ দখল করে রেখেছে। মঙ্গলবার একটি কক্ষ তালাবদ্ধ করাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।’ এতে ছাত্রদল ও যুবদলের অন্তত ১৮ জন আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
আরও খবর: দেশে অস্থিরতা, যা বললেন প্রধানমন্ত্রী
ছাত্রদলের সঙ্গে স্থানীয় যুবদল ও বিএনপির নেতা-কর্মীরাও সংঘর্ষে যুক্ত হন। বিকেলে আবার দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সন্ধ্যায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার আল্লামা কাশগরী (রহ.) হলে প্রবেশ করেন। এ সময় শিবিরের নিয়ন্ত্রণে থাকা হলের বেশ কয়েকটি কক্ষ ভাঙচুর করা হয়। সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ওবায়দুল হককে যুবদলের নেতা-কর্মীরা মারধর করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
রাতে ছাত্রশিবির এক বিবৃতিতে অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও আহত ব্যক্তিদের সুচিকিৎসার দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে ছাত্রদল এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। তবে সন্ত্রাস, উসকানি ও বিশৃঙ্খলার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে তারা দৃঢ় অবস্থানে থাকবে।
শিক্ষাঙ্গণে ছাত্রসংগঠনগুলোর সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করার প্রশ্ন নয়, বরং গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক ছাত্ররাজনীতি নিশ্চিত করা জরুরি। সহিংসতা কখনো রাজনৈতিক চর্চার অংশ হতে পারে না।
তিনি বলেন, যে আন্দোলনের মাধ্যমে তরুণরা পরিবর্তনের বার্তা দিয়েছে, সেই তরুণদের মধ্যেই যদি অসহিষ্ণুতা দেখা যায়, তাহলে সেটা উদ্বেগজনক। মতভিন্নতা থাকতেই পারে কিন্তু তার সমাধান সংঘর্ষ নয়, সংলাপ।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, জুলাই-পরবর্তী প্রজন্মের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা। পুরনো সংঘাতের ধারা অব্যাহত থাকলে পরিবর্তনের সুযোগ নষ্ট হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের তরুণদের সামনে একটি নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক স্বপ্নের দুয়ার খুলে দিয়েছিল। সেই স্বপ্ন ছিল সহনশীলতা, অংশগ্রহণ এবং গণতান্ত্রিক চর্চার। কিন্তু শিক্ষাঙ্গনে নতুন করে সংঘর্ষ ও আধিপত্য বিস্তারের প্রবণতা যদি জোরালো হয়, তাহলে তা শুধু শিক্ষার পরিবেশকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে না বরং জুলাই আন্দোলনের গণআকাঙ্ক্ষাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।