০৪ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৪৯

মেডিকেলের জরুরি বিভাগে ঢুকে শিবির-ছাত্রশক্তির কর্মীদের পেটাল ছাত্রদল

হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ঢুকে আহতদের ওপর ছাত্রদল নেতাকর্মীদের হামলা  © টিডিসি সম্পাদিত ছবি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২য় ক্যাম্পাসের প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন ইস্যু নিয়ে জকসু, শিবির, ছাত্র শক্তিসহ অন্যান্যদের ওপর হামলার ঘটনায় অন্তত শিক্ষক-সাংবাদিকসহ ৭০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। আহতদের ক্যাম্পাসের নিকটবর্তী ন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে ছাত্রদল। 

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকাল ৩টা থেকে ৬টা পর্যন্ত ন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতালে দফায় দফায় ‍এ হামলা চালায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সহ কবি নজরুল ও সোহরাওয়ার্দী সরকারি কলেজের ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালায়। 

‘দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসে’র কাছে আসা একাধিক ভিডিওতে এ ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। 

ভিডিওতে দেখা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশিবিরের এক কর্মীকে পা দিয়ে হামলা করছে সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনসহ একাধিক নেতারা। এ ছাড়া হাসপাতালের গ্লাস ভেঙে জরুরি বিভাগে প্রবেশ করে চিকিৎসা নেওয়া শিবির ও ছাত্র শক্তির কর্মীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। 

জানা যায়, এ সময় হাসপাতালে আহত হয়ে জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জিএস আব্দুল আলিম আরিফ, এজিএস মাসুদ রানা,ছাত্রশক্তির শাহীন মিয়া, ফেরদৌস, জাবির, নুর মোহাম্মদ, রাকিব, ইয়ামিন, আকিব, আব্দুল্লাহসহ প্রায় ৪০ এর অধিক শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। 

হাসপাতালের জরুরি বিভাগে হামলার শিকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী সাংবাদিকদের বলেন, জগন্নাথ বিশ্বদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শুনলেই মারছে। আমি কথা বলতে পারছি না। 

হাসপাতালে থাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ক্যাম্পাস সাংবাদিক মাহমুদুল হাসান ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘এখানে (ন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতালে) আমরা কয়েকজন সাংবাদিক আহতদের ছবি তুলতে গিয়েছিলাম। বিকাল তিনটার দিকেই সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা করে। একবার নয়, একাধিকবার হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তারা হামলা করেছে। আমরা প্রায় ৬ ঘন্টা ভেতরে আটকে ছিলাম। শিক্ষকরাও আমাদের সঙ্গে আটকে ছিলেন।

এদিকে হামলার বিষয়ে সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমি এখন গাড়িতে আছি। নেমে আপনাকে কয়েক মিনিট পরে কল দিচ্ছি।’

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম সন্ধ্যায় বলেন, এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে, চিকিৎসাধীন যারা ছিলেন তারা অন্য হাসপাতালে চলে গেছেন। তবে কবি নজরুল কলেজ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা অবস্থান করছে। পুলিশও সতর্ক অবস্থায় আছে।

এ বিষয়ে ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, এখন ক্যাম্পাসে বসে আছি। আজকে ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের হামলা করা হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। হাসপাতালে হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, না, না। ন্যাশনালে সংঘর্ষ হচ্ছে না। হামলা চালানোর জায়গা হাসপাতাল নয়। সেখানে সকলে সহাবস্থানে আছে। একটু পরে দেখতে যাবো শিবির নেতাদের। 

জবি উপাচার্য অধ্যাপক রইস উদ্দিন বলেন, আগামীকাল ক্যাম্পাস বন্ধ। ফলে আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথা বলে আজকেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবো। শিক্ষকদের সঙ্গে আমরা মিটিংয়ে বসে সিদ্ধান্ত নিবো।