সব পক্ষকেই ধৈর্য ধারণ করতে বললেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেছেন-‘সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সবার মধ্যে ঐক্যের বিকল্প নাই। যেটুকু হয়েছে আমি আপনাদের মাধ্যমে উদাত্ত আহ্বান জানাবো সবাই যেন ধৈর্যের পরিচয় দেয়।’ আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ক্যাম্পাসের বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য বলেন, কেউ যেন কারো প্রতি মারমুখী আচরণ না করে। কেউ যেন আইন হাতে তুলে না নেয়। কারণ আমরা যদি এটা চেক দিতে না পারি এটা হয়ত আরো বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। এতে করে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সুতরাং যেটুকু হয়েছে আমরা এই পর্যন্ত যেন সবাই স্টপ থাকি। আপনারাও (গণমাধ্যমকর্মী) সে ব্যাপারে আমাদের বিদ্যমান দুটি ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে একটু মতবিনিময় করেন। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে করব।
তিনি আরও বলেন, আমি আমার সহকর্মীদের নিয়ে তিন থেকে চার বার সবাইকে থামানোর চেষ্টা করেছি। ইতোমধ্যে সবার সাথেই আমার কথা হয়েছে। তো আমরা আশা করি এই সমস্যা যেটুকু হয়েছে সেটা আমাদের তদন্ত কমিটির রিপোর্টের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে। আসল ঘটনা বেরিয়ে আসলে আমরা তার ব্যাপারে কার্যকর ভূমিকা পালন করব।
উপাচার্য বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনে দায়িত্বে এক/দুইজন অথবা পাঁচজন থাকে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আপনাদের সবার সহযোগিতার প্রয়োজন। আমাদের প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত সুস্পষ্ট। আমাদের অবস্থানও অত্যন্ত সুস্পষ্ট। কোন ধরনের সংঘাত আমরা প্রশ্রয় দেই না এবং আমাদের ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মী যারা সকলকে আমরা ধৈর্য ধরার আহ্বান জানাই। এই ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদেরকে চিহ্নিত করার জন্য ইতিমধ্যে একটি কমিটি করেছি এবং সেই কমিটি এটা খুঁজে বের করবে।
সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক উপাচার্যের কাছে ‘ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজে সংঘর্ষের’ বিষয়ে জানতে চান। জবাবে উপাচার্য বলেন, ‘ঘটনা অবশ্য আমার নলেজ নেই। ন্যাশনাল মেডিকেলে যদি সে ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে থাকে বা বাংলাদেশের যে কোনো জায়গায় এই ধরনের ঘটনাকে আমরা সাপোর্ট করি না।’
সংবাদ সম্মেলন চলাকালে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংঘর্ষের জেরে রাজধানীর ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, কবি নজরুল সরকারি কলেজ এবং শহীদ সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।