০১ আগস্ট ২০২৬, ২০:৫৪

৫ বছরে ২ কোটি গাছ লাগাবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো   © সংগৃহীত

পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দেশের সর্ববৃহৎ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় হাতে নিয়েছে বৃহৎ পরিসরের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। ‘ওয়ান স্টুডেন্ট-ওয়ান ট্রি’ এবং ‘গ্রিন ক্যাম্পাস-গ্রিন এনার্জি’ উদ্যোগের আওতায় আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে অন্তত ২ কোটি গাছ রোপণের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয়।

এ লক্ষ্যে গত ৩০ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর কার্যালয়ে এক উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।

সভায় জানানো হয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ২ হাজার ৩০০টিরও বেশি কলেজ এবং প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থীকে এই কর্মসূচির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে সম্পৃক্ত করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি শিক্ষাবর্ষে একজন শিক্ষার্থী অন্তত একটি করে গাছ রোপণ করলে প্রতি বছর প্রায় ৪০ লাখ এবং পাঁচ বছরে ২ কোটি গাছ লাগানো সম্ভব হবে।

কেবল গাছ লাগানো নয়, রোপণ করা গাছের অন্তত ৮০ শতাংশ বেঁচে থাকা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা, জেলা ও বিভাগভিত্তিক পর্যবেক্ষণ এবং শক্তিশালী জবাবদিহিতা কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অঞ্চলভেদে উপযোগী বৃক্ষ নির্বাচন ও সঠিক স্থানে রোপণের বিষয়েও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

‘গ্রিন ক্যাম্পাস-গ্রিন এনার্জি’ কর্মসূচির আওতায় দেশের কলেজগুলোতে পরিবেশবান্ধব ও সবুজ ক্যাম্পাস গড়ে তোলা, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের জন্য উপাচার্য একটি উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত কয়েকটি কলেজে পাইলট প্রকল্প চালু করা হবে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে দেশের সব অধিভুক্ত কলেজে এ কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে।

সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, এই কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে দেশের পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং একটি সবুজ ও টেকসই বাংলাদেশ গঠনে এটি ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখবে।

উপস্থিত পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা এ উদ্যোগকে শিক্ষার্থীদের পরিবেশবান্ধব, দায়িত্বশীল ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সময়োপযোগী ও দূরদর্শী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন।

সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, কোষাধ্যক্ষ ড. মো. নাজমুল হোসাইন, রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেন, ইউনেস্কো চেয়ার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নুরুন্নবী, জাইকার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এস এম রেজাউল ইসলাম, কলেজ মনিটরিং অ্যান্ড ইভাল্যুয়েশন দপ্তরের পরিচালক মো. সাহাব উদ্দিন আহাম্মদসহ ইউনেস্কো, জাইকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।