তৃতীয় ভাষাকে প্রাধান্য দেওয়া বাংলাদেশ সরকারের একটা বড় লক্ষ্য: ড. মাহদী আমিন
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেছেন— কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদেরকে আরও এগিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলা এবং ইংরেজির বাইরে তৃতীয় একটি ভাষাকে প্রাধান্য দেওয়া বাংলাদেশ সরকারের একটি বড় লক্ষ্য। সারা বাংলাদেশে যে হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা আরবি ভাষাকে সুন্দরভাবে শিক্ষা দেয়ার ক্যাপাসিটি রাখে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় তার ভেতরে একটি।
শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথম বর্ষে (২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ) ভর্তিকৃত নবীন শিক্ষার্থীদের সেন্ট্রাল ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ড. মাহদী আমিন বলেন, আমাদের লক্ষ্য চাহিদাভিত্তিক একটি কারিকুলাম তৈরি করা, যেখানে শিক্ষার পদ্ধতিটি হবে আউটকাম বেজড। টেকনিক্যাল এবং ভোকেশনাল এডুকেশনকে সরকার প্রাধান্য দিচ্ছে, যার অর্থ আমরা এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা বিনির্মাণ করতে চাই যেখানে বাস্তব জীবনে কর্মক্ষেত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট দক্ষতা তৈরি হবে, স্কিলস ডেভেলপমেন্ট হবে। আমাদের লক্ষ্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় যেন শুধুমাত্র জ্ঞান স্থানান্তরের না, এর পাশাপাশি জ্ঞান সৃষ্টির একটি গ্লোবাল সেন্টার হতে পারে। সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার স্থাপন থেকে শুরু করে যে যে সাংগঠনিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম রয়েছে সেগুলোতে এগিয়ে আসবেন।
ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবোরেশন গড়ে তোলা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে স্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানের একটি সমন্বয় গড়ে তোলা হবে যেখানে অনেক বেশি ইন্টার্নশিপ থাকবে, কো-অপ প্রোগ্রাম থাকবে, হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ থাকবে। লোকাল যে অপরচুনিটিগুলো রয়েছে সেগুলোর সাথে বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রির স্থানীয় সমস্যা গুলো সমাধানে একটি ইকোসিস্টেম তৈরি করার মাধ্যমে আমাদের লোকাল ইউনিভার্সিটি সেখানে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। আপনারা যখন গ্র্যাজুয়েট হিসেবে গড়ে উঠবেন এটি আগামীর বাংলাদেশের স্বনির্ভরতার জন্য, আত্মনির্ভরশীলতার জন্য, কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা এবং দক্ষতার সন্নিবেশ ঘটাবে।
প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার এই উপদেষ্টা আরও বলেন, বাংলাদেশকে যদি সামনের দিকে সারা বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়, তাহলে আমাদের টেকনোলজিক্যাল ইন্টিগ্রেশন খুব গুরুত্বপূর্ণ। চলমান চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মোকাবেলায় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, সেমিকন্ডাক্টর, রোবোটিক্স, সাইবার সিকিউরিটি, ডেটা সায়েন্স সহ সবকিছুর তার মূল উদ্দেশ্য দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা। আমাদের প্রচুর পরিমাণ তারুণ্যের শক্তি রয়েছে যা বাংলাদেশের একটি বড় পজিটিভ জিনিস। যারা এখন পড়াশোনা করছেন, আপনারা যারা শিক্ষিত, গ্র্যাজুয়েট হয়ে সামনের দিনগুলোতে বের হবেন, আপনাদের ভেতরে যেন সেই প্রযুক্তিগত দক্ষতা, সেই যোগ্যতা তৈরি হয় যার ওপর ভিত্তি করে আগামী বাংলাদেশকে আপনারা নেতৃত্ব দিবেন।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন, ইবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী এবং মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ উন্নয়ন ও বাণিজ্য সম্পর্ক অ্যাসোসিয়শনের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আলম শাহ। ওরিয়েন্টেশন বক্তা ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল আওয়াল।