৩০ জুলাই ২০২৬, ২০:০৯

হেলে পড়া গাছ নিয়ে দুর্ঘটনার শঙ্কায় শিক্ষার্থীরা, উদাসীন কলেজ প্রশাসন

ঢাকা কলেজের শহিদ মো. ফরহাদ হোসেন ছাত্রাবাসের পাশে রাস্তার ওপর হেলে পড়া গাছ  © টিডিসি ফটো

ঢাকা কলেজের শহিদ মো. ফরহাদ হোসেন ছাত্রাবাসের পাশে চলাচলের রাস্তার ওপর আড়াআড়িভাবে গাছ হেলে আছে। হেলে পড়ার এক মাস পেরোলেও এখনও সরানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি কলেজ প্রশাসন।

জানা যায়, গত জুন মাসের ২০ তারিখ ঝড়ে কলেজের ফরহাদ হলের সামনের একটি কড়ই গাছ গোড়াসহ হেলে পড়ে। এতে কলেজের ফরহাদ হলের পানির পাইপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেসময় গাছটিকে দড়ি বেঁধে সাময়িকভাবে অপর একটি গাছের সঙ্গে হেলান দিয়ে রাখেন কলেজের কর্মচারীরা। এরপর এক মাস ১০ দিন পরও সরানো হয়নি ঝুঁকিপূর্ণ গাছটি। 

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গাছটি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আরেকটি গাছের উপর হেলে আছে। হেলে পড়া গাছের নিচের রাস্তা দিয়ে চলাচল করছেন শিক্ষার্থীরা। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা শিক্ষার্থীদের। এদিকে এক মাস অতিবাহিত হলেও হেলে পড়া গাছটি সরানোর জন্য প্রশাসন কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে দক্ষিণায়ন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী নাহিয়ান রেহমান রাহাত বলেন, গত কয়েকদিন আগের ঝড়ে হলপাড়ার মূল রাস্তার একটি গাছ পড়ে যাওয়ার কারণে রাস্তা বন্ধ হয়ে আছে। এই গাছটার জন্য আবাসিক শিক্ষার্থীদের অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। সাইকেল নিয়েও তারা চলাচল করতে পারছে না। এটা শুধু গাছ পড়ে থাকার বিষয় না, এর সঙ্গে ক্যাম্পাসের সার্বিক বিষয়ে প্রশাসনের যে নির্লজ্জ ভূমিকা, ছাত্রদের প্রতি যে অবহেলার মনোভাব, সেটা খুবই দুঃখজনক। শুধু ক্যাম্পাসের গাছের বিষয় না, শিক্ষার্থীরা হলে নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়। আমাদের জোর দাবি থাকবে,  দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব সমস্যার সমাধানের দাবি কলেজ প্রশাসনের কাছে জানাই।

এ বিষয়ে শিক্ষার্থী সাকিব আল হাসান বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা কখনোই অবহেলার বিষয় হতে পারে না। অথচ দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে একটি ঝুঁকিপূর্ণ গাছ দাঁড়িয়ে থাকলেও কলেজ প্রশাসনের এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। কোনো দুর্ঘটনা ঘটার অপেক্ষায় থাকা কি সমাধান? যদি কোনো শিক্ষার্থীর ক্ষতি হয়, তাহলে সেই দায় কে নেবে? কলেজ প্রশাসন বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত এবং আশা করি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। 

এ বিষয়ে কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ আনোয়ার মাহমুদ বলেন, গাছ অপসারণের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের সঙ্গে ইতোমধ্যে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাদের আজ আসার কথা থাকলেও অনিবার্য কারণে তারা আসতে পারেননি। তিনি জানান, আগামীকাল গাছটি অপসারণ করা হবে। 

এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ঢাকা শহরে চাইলেই গাছ কাটার দক্ষ লোকজন পাওয়া যায় না। সে কারণেই গাছ অপসারণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে আগামীকালই কাজটি সম্পন্ন করা হবে।