২৭ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৫

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সেমিস্টার ক্লাস-পরীক্ষার পর ভুয়া শিক্ষার্থী ধরা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ  © টিডিসি ফটো

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ইংরেজি বিভাগে এক সেমিস্টার ক্লাস-পরীক্ষার পর ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের এক ভুয়া শিক্ষার্থী ধরা পড়েছে। তবে ঘটনার দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। গঠিত হয়নি কোনো তদন্ত কমিটিও। বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে শামিমা আক্তার (রোল: ২৪১০১০৪) নামে এক শিক্ষার্থী জালিয়াতির মাধ্যমে বিভাগে নাম অন্তর্ভুক্ত করে ক্লাস ও ১ম সেমিস্টারের পরীক্ষায় অংশ নেন। ভর্তি প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত তালিকায় (সর্বশেষ রোল: ২৪১০১০৩) তার নাম বা রোল ছিল না। বিভাগীয় অফিশিয়াল কম্পিউটারে জালিয়াতি করেই তার নাম যুক্ত করা হয়। ১ম সেমিস্টারের রেজাল্ট তৈরির সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল রেজাল্ট প্রসেসিং সফটওয়্যারে তার রোল না পাওয়ায় বিষয়টি পরীক্ষা কমিটির নজরে আসে এবং এই জালিয়াতির বিষয় নজরে আসার পর গত ১১ জুলাই জরুরি বৈঠকও হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মূল জালিয়াতির ঘটনাটি ঘটে এই বিভাগীয় পর্যায়েই। ইংরেজি বিভাগের অফিশিয়াল কম্পিউটারে জালিয়াতির মাধ্যমে ২৪১০১০৪ রোল নম্বর দিয়ে শামিমা আক্তারের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ভর্তি হয়ে শামিমা ১ম সেমিস্টারের ক্লাস নিয়মিত করেছিল। এছাড়া যথারীতি ফরম ফিলআপ করে ১ম সেমিস্টার পরীক্ষায় অংশও নেয়। সকল পরীক্ষা সম্পন্ন করলেও সন্দেহ তৈরি হয় পরীক্ষার রেজাল্ট তৈরির সময়। সফটওয়ারে শামীমার রোল না থাকায় রেজাল্ট প্রসেস না করা গেলে বিষয়টি বিভাগের সংশ্লিষ্টদের নজরে আসে।

জালিয়াতির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর কোনো পদক্ষেপ বিভাগের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়নি। শুধুমাত্র ভর্তির নথি না পাওয়ায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর পরীক্ষা বাতিল এবং নাম- রোল এন্ট্রির সাথে জড়িত সংশ্লিষ্ট দুই স্টাফ, ইসরাত জাহান ও মুরাদ হোসেনকে কেবল সতর্ক করেই নীরবে সমাধানের চেষ্টা করে বিভাগটি। ঘটনার দুই সপ্তাহ পর বিষয়টি জানাজানি হলে তা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়। অভিযোগ উঠেছে, দেশ-বিদেশের এক প্রভাবশালী জালিয়াতি চক্রের চাপের কারণেই অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে পুরো বিষয়টি বিভাগীয় পর্যায়েই ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

রবিবার (২৬ জুলাই) বিভাগের জরুরি মিটিংয়ে আগের সভার সিদ্ধান্ত উপাচার্যকে জানানোর এবং ডেপুটি রেজিস্ট্রার ইসরাত জাহান ও সহকারী লাইব্রেরিয়ান মুরাদ হোসেনের কাছে লিখিত জবাব চাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। 

প্রাপ্ত চিঠির বিষয়ে মুরাদ হোসেন জানান, তিনি বিস্তারিত পড়েননি তবে সেখানে ভবিষ্যতে সতর্ক থাকার নির্দেশনা ছিল। পরে জানানো হবে বলে মোবাইল সংযোগ কেটে দেন।

অন্যদিকে ইসরাত জাহান বলেন, ওই শিক্ষার্থী নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা (দাদা) কোটায় ভর্তি দাবি করে ২৪১০১০৪ রোল নম্বর অন্তর্ভুক্ত করতে বলে। তিনি না বুঝে ও সত্যতা যাচাই (ভেরিফিকেশন) না করে তা বিশ্বাস করেছিলেন, যা তার ভুল ছিল বলে স্বীকারও করেন।

এবিষয়ে অভিযুক্ত শামিমা আক্তার এবং তার স্বামী একই বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইয়াছিনকে একাধিকবার ফোন করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ড. মামুনুর রহমান বলেন, সমস্যাটি লিখিতভাবে বিভাগীয় সভাপতিকে অবগত করলে জরুরি সভার আয়োজন করে বিভাগ। সকলের আলোচনার ভিত্তিতে বিভাগ সিদ্ধান্ত নেয়।

এসব সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক দপ্তরে অবগত করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা বিভাগকে জানিয়েছি। তবে এ বিষয়ে আর কী করা যায় তার জন্য গতকাল (২৬ জুলাই) বিভাগের সভাপতি ও সিনিয়র শিক্ষকদের নিয়ে জরুরি মিটিং করা হয়। এতে সিদ্ধান্ত হয় আমরা এসব বিষয়ে উপাচার্যকে অবগত করব।

এ বিষয়ে বিভাগের সভাপতি ড. শাহাদাৎ হোসেন আজাদ জানান, পরীক্ষা কমিটির অভিযোগে জরুরি সভা ডেকে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর পরীক্ষা বাতিল ও সংশ্লিষ্ট দুই স্টাফকে সতর্ক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্টাফদের গাফিলতির বিষয়ে তদন্ত কমিটির কথা উঠলেও সিনিয়র শিক্ষকদের পরামর্শে প্রথমেই জালিয়াতি ধরা পরা এবং শিক্ষার্থীকে সনদ না দেওয়ায় মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তদন্ত না করে স্টাফদের শুধু সতর্ক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ, ১১ ও ২৬ জুলাইয়ের একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে।