খালেদা জিয়া দেশের জন্য সারা জীবন ত্যাগ স্বীকার করেছেন: ইবি উপাচার্য
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া তাঁর পুরোটা জীবন এই দেশের জন্য স্যাক্রিফাইস করেছেন। তিনি ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় আসার পর নারী শিক্ষার বিস্তারে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। এইচএসসি পর্যন্ত মেয়েদের পড়াশোনার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন। আজকে ৩০ বছর পর তার সুফল আমরা পাচ্ছি।
রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ইবি উপাচার্য বলেন, আমরা এখন যে সময়ে অবস্থান করছি, তা হঠাৎ করে আমাদের সামনে আসেনি। আজ থেকে ত্রিশ বছর আগে যে পরিস্থিতি ছিল, আর বর্তমান বাংলাদেশের যে চিত্র, এটিকে আমরা মিলাতে পারব না। আমাদের সমাজ, আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট সবকিছু বিবেচনায় আমরা অনেক পশ্চাৎপদ অবস্থানে ছিলাম। এই পৃথিবীতে অনেক ক্ষমতাধর মানুষ অবদান রেখেছেন। তার বিনিময়ে সমাজ কিংবা রাষ্ট্র থেকে তাঁরা কিছু চাননি। পৃথিবীতে যত ক্ষমতাধর মানুষ এসেছেন, তাঁরা সমাজ এবং রাষ্ট্রকে দান করে গেছেন। যার ফলে আজকে আমরা একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক হিসেবে, একটি সভ্য সমাজের নাগরিক হিসেবে আজকে নিজেকে আমরা এখানে প্রকাশ করতে পেরেছি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এই অডিটোরিয়ামে নতুন শিক্ষার্থীর পরিচিতি পর্বের সময় আমি লক্ষ্য করছিলাম যে নারী এবং পুরুষ শিক্ষার্থীদের মধ্যে পার্থক্য কতটুকু। আমার কাছে মনে হচ্ছে প্রায় ফিফটি-ফিফটি (৫০-৫০), এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বেশি।তোমরা সৌভাগ্যবান, একটা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে তোমরা এখানে জায়গা করে নিতে পেরেছো। এ জন্য তোমাদেরকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি মানুষ, যাদের ট্যাক্স-এর টাকায় বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হয়, তাদের প্রতি দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে তিনি নবীন শিক্ষার্থীদের নৈতিক এবং দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীমের সভাপতিত্বে প্রোগ্রামে বিশেষ অতিথি ছিলেন পাবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের আহবায়ক ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. শামীম আহসান। ওরিয়েন্টেশন বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রশীদ।