২২ জুলাই ২০২৬, ১৭:০৫

জিয়াউর রহমানের জন্ম না হলে বাংলাদেশের জন্ম হত না: জবি ভিসি

জবি উপাচার্য  © সংগৃহীত

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্ম না হলে বাংলাদেশের জন্ম হত না বলে মন্তব্য করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্‌দীন। বাংলাদেশের সাবেক এই রাষ্ট্রপতির কোলে চড়ার সৌভাগ্য হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। আজ বুধবার (২২ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে উপাচার্য এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

জবি ভিসি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, এই নামটি শুনলেই আমার মধ্যে একটু আবেগ আসে। আমার সৌভাগ্য হয়েছিল উনার কোলে চড়ার। এই মানুষটি— এই যে আমরা আমাদের জন্মভূমি, বাংলাদেশ বলি, এই মানুষটির জন্ম না হলে এই বাংলাদেশের জন্ম হতো না।

তিনি বলেন, পাকিস্তানি হানাদারদের অমানসিক অত্যাচারে বাংলার মানুষ যখন দিশেহারা, কী করবে কিছুই খুঁজে পাচ্ছিল না, (তখন) একজন আর্মির সাধারণ সৈনিক থেকে উনি জাতিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জাতিকে পথ দেখিয়েছেন— এখন কী করতে হবে। শুধু ঘোষণা দিয়েই উনি ক্ষান্ত হননি, জেড ফোর্স গঠন করে নিজে সেই সমরযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

উপাচার্য আরও বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিল বিধায় আমরা একটি দেশ পেয়েছি, দেশের মানচিত্র পেয়েছি, স্বাধীনতা পেয়েছি, একটি ভূখণ্ড পেয়েছি। এই জাতি যখনই ক্রান্তিলগ্নে উপনীত হয়েছে, পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি থাকবেন না জেনে এই জাতিকে সব ক্রান্তিলগ্নে বাঁচিয়ে রাখার জন্য যে দর্শনটি উপহার দিয়ে গিয়েছেন সেই দর্শনের নাম বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ।

তিনি বলেন, সেই ১৯৭৫-এ ভারতীয় আধিপত্যবাদ যখন বাংলাদেশকে আবারও স্বাধীনতা হরণের একটি পন্থায় উপনীত হয়েছিল, সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এই দেশের স্বাধীনতাকে দ্বিতীয়বারের মতো রক্ষা করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রতিটি বাংলাদেশিকে একই সূত্রে গাঁথার জন্য বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের প্রবর্তন করেছিলেন। বাকশাল থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র কায়েম করেছিলেন। আজকে যারা রাজনীতি করেন, আপনাদের রাজনৈতিক অধিকার ওই সময় যদি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান না দিতেন, এই দেশে রাজনীতি করার অধিকার পেতেন কিনা সেটা কিন্তু আজকে গবেষণার বিষয়।

জিয়াউর রহমানের অবদান উল্লেখ করে উপাচার্য আরও বলেন, হাজারো বছর ধরে ইসলামী আন্দোলন করেও যা করা সম্ভব ছিল না— বাংলাদেশের সংবিধানে সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর আস্থা এবং বিশ্বাস প্রতিস্থাপন করে উনি প্রমাণ করেছিলেন শতকরা ৯০ ভাগ মুসলমানের এই বাংলাদেশে মুসলমানদের ধর্মীয় আবেগ এবং চাওয়াকে কিভাবে বাস্তবে রূপ দান করতে হয়।

তিনি বলেন, ২০২৪-এ যখন আবার দেশ ক্রান্তিলগ্নে উপনীত হয়েছে; আজকে অনেককেই আমরা অনেক বড় কথা বলতে দেখি, এই বিএনপি যদি না থাকত, জাতীয়তাবাদী আদর্শের ধারক এবং বাহক কর্মীরা যদি না থাকত, ২৪ কিন্তু সফল হত না। এটা স্বীকার করতেই হবে। আজকে আমরা দেখছি, অনেকেই ২৪-কে নিয়ে অনেক বড় কৃতিত্বের দাবি করেন। বাট (কিন্তু) ইতিহাস পর্যালোচনা করলে আমরা অনেকের অস্তিত্ব কিন্তু সেই ফ্যাসিবাদের মধ্যে খুঁজে পাই।

ফ্যাসিবাদী শাসনামলেও বিএনপি নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে রাজনীতি করেছে এমন প্রসঙ্গ উত্থাপন করে তিনি বলেন, যারা আপসহীন ছিল এবং প্রকাশ্য ছিল, জাতীয়তাবাদী শক্তির যারা ম্যানপাওয়ার, তারাই কিন্তু স্বরূপে ছিল। কেন ছিল? কারণ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ওই জাতীয়তাবাদী দর্শনের চেতনা। জাতীয়তাবাদী দর্শন, এই দর্শন হলো যারা দেশকে ভালোবাসবে তাদের দর্শন। জাতীয়তাবাদী দর্শন হলো আমার অস্তিত্বের দর্শন। জাতীয়তাবাদী দর্শন হলো আমার দেশকে আমার বুকে ধারণ করার দর্শন। জাতীয়তাবাদী দর্শন হলো আমাদের আত্মপরিচয়ের দর্শন।