২০ জুলাই ২০২৬, ২১:০৯

কে জিতবে বিশ্বকাপ, ৪৯ হাজার ম্যাচের ডেটা বিশ্লেষণ করে দেড়মাস আগেই বলেছিলেন অনুপ

কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী অনুপ তালুকদার  © টিডিসি ফটো

ফিফা বিশ্বকাপের মতো অনিশ্চয়তায় ভরা টুর্নামেন্টের ফল আগেভাগে অনুমান করা সহজ নয়। তবে বিশ্বকাপ শুরুর এক মাসেরও বেশি আগে ডেটা সায়েন্স ও পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে স্পেনকে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন এবং স্পেন-আর্জেন্টিনাকে সম্ভাব্য ফাইনালিস্ট হিসেবে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী অনুপ তালুকদার। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর তার সেই বিশ্লেষণের সঙ্গে বাস্তব ফলাফলের উল্লেখযোগ্য মিল পাওয়া গেছে।

গত ১১ জুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ‘২০২৬ FIFA World Cup Prediction’ শিরোনামের বিশ্লেষণে অনুপ সম্ভাব্য সেমিফাইনালিস্ট, ফাইনালিস্ট ও চ্যাম্পিয়ন দলের সম্ভাবনা তুলে ধরেন। তার পূর্বাভাসে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় চারটি দলই শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালে ওঠে। একই সঙ্গে ফাইনালে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাও দেখানো হয়েছিল। বাস্তবেও এই দুই দলই ফাইনালে খেলেছে এবং স্পেন শিরোপা জিতেছে।

অনুপের তৈরি প্রেডিকশন ইঞ্জিনে দুটি পৃথক মডেল ব্যবহার করা হয়েছিল। একটি ‘রিয়েলিস্টিক মডেল’, যেখানে ইএলও (ELO) রেটিং, বেটিং মার্কেটের অডস, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স এবং পোয়াসঁভিত্তিক (Poisson) মন্টে কার্লো (Monte Carlo) সিমুলেশন ব্যবহার করা হয়। অন্যটি ছিল মেশিন লার্নিংভিত্তিক মডেল, যেখানে ঐতিহাসিক ম্যাচের তথ্য দিয়ে প্রশিক্ষিত র্যান্ডম ফরেস্ট (Random Forest) ক্লাসিফায়ার ম্যাচের সম্ভাব্য ফলাফল নির্ধারণ করে।

মডেল তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছিল ৪৯ হাজারের বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচের ফলাফল, ৪৭ হাজারের বেশি গোলদাতার তথ্য, ৬৭৫টি পেনালটি শুটআউটের রেকর্ড, বিভিন্ন দলের ইএলও রেটিং, বেটিং অডস, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, আক্রমণ ও রক্ষণভাগের সক্ষমতা এবং পেনালটি পারফরম্যান্সের তথ্য। এরপর পুরো বিশ্বকাপ ১০ হাজারবার সিমুলেশন চালিয়ে প্রতিটি দলের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা, ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা এবং নকআউট পর্বে যাওয়ার সম্ভাবনা নির্ণয় করা হয়।

রিয়েলিস্টিক মডেল অনুযায়ী স্পেনের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ছিল ২২ দশমিক ৮৬ শতাংশ, যা ছিল অংশগ্রহণকারী সব দলের মধ্যে সর্বোচ্চ। এরপর ছিল আর্জেন্টিনা (১৪.৬১ শতাংশ), ফ্রান্স (১৩.০৬ শতাংশ), ইংল্যান্ড (৭.৯৭ শতাংশ), পর্তুগাল (৭.৪৯ শতাংশ), ব্রাজিল (৬.৯৩ শতাংশ) এবং জার্মানি (৪.৭২ শতাংশ)।

বর্তমানে অনুপ তালুকদার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি অনুষদের এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড অ্যাপ্লাইড স্ট্যাটিস্টিক্স বিভাগে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত আছেন। এই কাজের পেছনের ভাবনা সম্পর্কে তিনি বলেন, পরিসংখ্যানের ছাত্র হিসেবে এবং ফুটবলের প্রতি আগ্রহ থেকেই এই প্রজেক্টের কাজ শুরু করি। প্রায় দেড় মাস সময় নিয়ে ৪৯ হাজারের বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ, ৪৭ হাজারের বেশি গোলস্কোরারের রেকর্ড এবং শত শত পেনালটি শুটআউটের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করতে হয়েছে। এরপর বিভিন্ন পরিসংখ্যানিক মডেল ও সিমুলেশনের মাধ্যমে সম্ভাব্য ফলাফল বের করা হয়।

বিশ্বকাপ শেষে নিজের বিশ্লেষণের সঙ্গে বাস্তব ফলাফলের মিল পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফুটবলে শতভাগ নির্ভুল পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ ইনজুরি, লাল কার্ড কিংবা একটি মুহূর্তই পুরো ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারে। তারপরও স্পেনকে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন এবং স্পেন-আর্জেন্টিনাকে সম্ভাব্য ফাইনালিস্ট হিসেবে দেখানো হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত বাস্তবে মিলেছে। এটি দেখিয়েছে যে, ডেটা ও পরিসংখ্যানের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের সামগ্রিক প্রবণতা যথেষ্ট নির্ভুলভাবে বিশ্লেষণ করা সম্ভব।