১৯ জুলাই ২০২৬, ২০:১৫

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক ফোরামের কার্যক্রম স্থগিত করল কর্তৃপক্ষ

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক ফোরামের কার্যক্রম স্থগিত করল কর্তৃপক্ষ  © সংগৃহীত ও সম্পাদিত

অপতথ্য ছড়িয়ে নারী শিক্ষার্থী হেনস্তা, উস্কানি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টির অভিযোগে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিক ফোরামের সকল কার্যক্রম স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 

রবিবার (১৯ জুলাই) শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) খন্দকার নাজমুল হাসান স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। একইসাথে ঘটনার সুষ্ঠু ও অধিকতর তদন্তের স্বার্থে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জানা যায়, গত ১১ জুলাই বহিরাগত কয়েকজন যুবক বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রীর গোপনে ভিডিও ধারণ করে। বিষয়টি টের পেয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের আটক করলে অভিযুক্তরা নিজেদের ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে মুক্তি পায়। 

তবে ক্ষমা চাওয়ার ঘটনার ভিডিওটি ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক ফোরামের সদস্য আসাদুল্লাহ আল গালিব। পরবর্তীতে ভিডিওটি ভুক্তভোগীর বক্তব্য ছাড়া এবং ঘটনাকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে সাংবাদিক ফোরামের ফেসবুক পেইজ থেকে প্রকাশ করা হয়।

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সেখান থেকে নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের এক ছাত্রীর ছবি নিয়ে বিভিন্ন পেইজ থেকে তাকে হেনস্তা ও সাইবার বুলিং করা হয়। সেসময় ওইসব পোস্টে উস্কানিমূলক কমেন্ট করে সাংবাদিক ফোরামের সদস্য গালিব।

এ ঘটনায় সেই নারী শিক্ষার্থী সাইবার বুলিংয়ের শিকার হন। এরই প্রেক্ষিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ে পোস্টটি অপসারণের নির্দেশনা দেওয়া হলেও সাংবাদিক ফোরামের অসতর্কতা ও অহেতুক বিলম্বের কারণে বিষয়টি আরও গুরুতর আকার ধারণ করে এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার (১৯ জুলাই) ২ দফা দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে আন্দোলনে নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দাবি- সাংবাদিক ফোরামের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে এবং নারী শিক্ষার্থী হেনস্তার ঘটনায় জড়িত সকলকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। পরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উপাচার্য ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন উপস্থিত হয়ে দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেন এবং প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের সাথে আলোচনায় বসে সাংবাদিক ফোরামের কার্যক্রম স্থগিত করে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রশাসন। 

নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী রাফেল আফ্রাদ বলেন, আমাদের বিভাগে ক্যাম্পাসে বাইরে থেকে আসা কিছু ছেলে শিক্ষার্থী গোপনে ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে। আমরা চেয়েছিলাম তারা যেন তাদের ভুল বুঝতে পারে। কিন্তু সেই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক ফোরামের সদস্য গালিব সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদের ভিডিও ধারণ করে, তখন ছেলেগুলো সেই সাংবাদিকের পায়ে ধরে ক্ষমা চায়। আমরাও ভিডিওগুলো প্রচারে নিষেধ করি। কিন্তু এর পরেও তারা এই ভিডিও কাটপিস করে ভুলভাবে উপস্থাপন করে তাদের পেজ থেকে প্রচার করে। যার ফলে এলাকাবাসীর সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এই কারণে আমরা তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ চাই।

তবে এ বিষয়ে ভিডিও ধারণকারী আসাদুল্লাহ আল গালিবের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।