১৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৩

মাদরাসা শিক্ষাকে গবেষণামুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর করার আহ্বান

‘মাদরাসায় উচ্চশিক্ষা: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনার  © টিডিসি ছবি

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে ‘মাদরাসায় উচ্চশিক্ষা: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনার এবং জুলাই শহীদদের স্মরণে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কামিল (স্নাতকোত্তর) শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের আয়োজনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান। তিনি বলেন, মাদরাসা শিক্ষা দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সময়ের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মাদরাসা শিক্ষাকে আরও গবেষণামুখী, প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষতাভিত্তিক করতে হবে। ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতায় সমৃদ্ধ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে পারলে মাদরাসা শিক্ষার্থীরা জাতীয় উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

তিনি মাদরাসার সার্বিক উন্নয়নে আত্মসমালোচনা ও আত্মমূল্যায়নের মানসিকতা নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি শিক্ষকদের নিয়মিত ইন-হাউস প্রশিক্ষণ, প্রতিটি মাদরাসায় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠন এবং শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে ইবতেদায়ি শাখা চালুর পরামর্শ দেন।

জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করে উপাচার্য বলেন, তাদের আত্মত্যাগ গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অনন্য দৃষ্টান্ত। নতুন প্রজন্মকে তাদের আদর্শ ও দেশপ্রেম ধারণ করে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে হবে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম। তিনি বলেন, আধুনিক শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তির সমন্বয়ের মাধ্যমে মাদরাসা শিক্ষার বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে একে আরও যুগোপযোগী ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে হবে।

কামিল (স্নাতকোত্তর) শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের ডিন প্রফেসর ড. মো. ইদ্রিস আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার শাহীনুল ইসলাম, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক মো. নওসের আলী এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ফাহাদ আহমদ মোমতাজী।

সেমিনারে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোর জেলার অধিভুক্ত ফাজিল ও কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ এবং গভর্নিং বডির সদস্যরা অংশ নেন এবং মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠান শেষে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের রুহের মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং দেশ ও জাতির শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।