১৭ জুলাই ২০২৬, ২২:৪৬

এক বছরেও মেলেনি বিচার, সাজিদকে স্মরণ করে ক্ষোভ ইবি শিক্ষার্থীদের

'স্মরণে শহীদ সাজিদ আব্দুল্লাহ' শীর্ষক স্মরণসভা ও প্রতিবাদী কর্মসূচি  © টিডিসি ফটো

হলের পুকুর থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী শহীদ সাজিদ আব্দুল্লাহর ভাসমান লাশ উদ্ধারের এক বছর আজ। সাজিদকে স্মরণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে 'স্মরণে শহীদ সাজিদ আব্দুল্লাহ' শীর্ষক স্মরণসভা ও প্রতিবাদী কর্মসূচি। 

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বাদ মাগরিব বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ঘাতকদের হাতে শহিদ সাজিদ আব্দুল্লাহর নির্মম শাহাদাতের এক বছর স্মরণে 'জাস্টিস ফর সাজিদ আব্দুল্লাহ' প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সাজিদ আব্দুল্লাহর বন্ধু ইনসানুল ইমামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সাজিদের বন্ধুবান্ধব, সহপাঠী, বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও বিচারকামী সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। 

পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই স্মরণসভায় শুরুতেই সাজিদের পছন্দের কাওয়ালি পরিবেশন করেন শহীদ সাজিদের গড়ে তোলা সাংস্কৃতিক সংগঠন 'মেহফিল' এর সদস্যরা। কাওয়ালির পরে প্রতিবাদী কবিতা আবৃত্তি করেন ইবি ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আহমাদ গালিব। এরপরে সাজিদ আব্দুল্লাহ স্মরণে বিভিন্ন সময় করা সাজিদের কুরআনের তেলাওয়াত, জুলাই আন্দোলন ও স্বাধীন ফিলিস্তিনের পক্ষের মিছিল এবং কাওয়ালির ক্লিপ মিলিয়ে তৈরি একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।  

স্মৃতিচারণ পর্বে খেলাফত ছাত্র মজলিসের সভাপতি জোনায়েদ বলেন, সাজিদ ও তার বন্ধু ইনসানের সাথে আমার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিলো। পাশ্চাত্য সংস্কৃতির আগ্রাসন ঠেকাতে সাজিদের মেহফিল গঠনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছিলাম। সাজিদ এভাবে চলে যাবে তা কখনোই ভাবতে পারিনি। আল্লাহর কাছে সাজিদের জন্য দোয়া করছি এবং সাজিদ হত্যার দ্রুত বিচার দাবি করছি। 

ছাত্রশক্তির আহবায়ক ফুয়াদ হাসান বলেন, আজকের কাওয়ালি পরিবেশনা দেখে আমার মনে হচ্ছিলো কোথাও যেন সাজিদ আছে, আমাদের মাঝেই আছে। সাজিদের জায়গায় আমি নিজেও থাকতে পারতাম।  আমাদের অনেক ব্যর্থতা আছে কারণ সাজিদের বিচারের জন্য আমাদের যা করা উচিত ছিল তা করতে পারিনি। আজকে সাজিদের খুনি বেচে গেলে কাল আরও কাওকে খুন হতে হবে। সাজিদের বিচার দাবিতে আমাদের সবার এক হওয়া উচিত, নতুন ভাবে শুরু করা উচিত। 

শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আনোয়ার পারভেজ বলেন, শহীদ সাজিদ আব্দুল্লাহ একজন হাফেজ ছিলেন। আমার ছোট ভাইকে হাফেজ বানাতে বাবা-মায়ের কেমন কষ্ট করতে হয়েছে। সাজিদের সাথে দেখা হলে কথা বলার আগেই একটা হাসি দিতো। বলতো ভাই এটা আপনার থেকেই শিখেছি। আমরা দীর্ঘদিন ধরে দেখছি যে সাজিদ হত্যার সাথে বিচারের জন্য যদি কর্মসূচি দেওয়া হলে প্রশাসনের গাত্রদাহ হয়। তারমানে, এখানে সামথিং রং। বর্তমান ভিসি স্যারের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে শহীদ সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত এবং প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

সর্বশেষে সাজিদ আব্দুল্লাহর আত্মার শান্তি ও মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও  মোনাজাতের মধ্য দিয়ে স্মরণসভা শেষ হয়। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব মাওলানা আশরাফ উদ্দিন খান আজহারী। 

প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৭ জুলাই বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হলের পুকুর থেকে আল কোরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাজিদ আবদুল্লাহর ভাসমান লাশ উদ্ধার করে শিক্ষার্থীরা। প্রথমে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ধারণা করা হলেও ফরেনসিক রিপোর্টে জানা যায়, সাজিদকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তারপর থেকেই সাজিদ হত্যার বিচার ও নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে আন্দোলন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।