বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগত ঢোকা-হাতাহাতির দায় ভিপির ওপর দিলেন প্রক্টর, চাইলেন ব্যাখ্যাও
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে বড় পর্দায় খেলা দেখানোর সময় বহিরাগতদের প্রবেশ ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার দায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলামের ওপর চাপিয়ে তার কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ সংক্রান্ত চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, যিনি একই সঙ্গে বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ইউট্যাবের সভাপতিও।
জানা গেছে, বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে জায়ান্ট স্ক্রিনে খেলা দেখানোর আয়োজন করে জকসু। এ আয়োজনের জন্য উপাচার্যের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন জকসু ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম। তার ভাষ্য, জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাইমের স্বাক্ষরিত আবেদনের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই এ আয়োজন করা হয়।
তবে সম্প্রতি মুক্তমঞ্চে খেলা চলাকালে দর্শকদের মধ্যে কয়েকটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। কয়েকজন শিক্ষার্থী ও সংবাদকর্মীর দাবি, উপস্থিত কিছু বহিরাগত দর্শকের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এছাড়া সিনিয়র-জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যেও তুচ্ছ একটি ঘটনা ঘটে, যা তাৎক্ষণিকভাবে মীমাংসা করা হয়।
এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জকসু ভিপির কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি ব্যতীত জকসু ভিপির নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বড় পর্দা বা জায়ান্ট স্ক্রিনে খেলা দেখার আয়োজন করা হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে খেলা চলাকালীন সময়ে বহিরাগতদের প্রবেশ, বিভিন্ন সময় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি ব্যতীত বড় পর্দা/জায়ান্ট স্ক্রিনে খেলা দেখানোর মাধ্যমে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা ও মারামারির দায় কোনোভাবেই জকসু ভিপি এড়াতে পারেন না। এ বিষয়ে আগামী ১২ জুলাইয়ের মধ্যে লিখিতভাবে জবাব প্রক্টরের নিকট দাখিল করার জন্য অনুরোধ করা হলো। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জবাব না পাওয়া গেলে আনীত অভিযোগ সম্পর্কে জকসুর ভিপির কিছু বলার নেই বলে গণ্য করা হবে। পরবর্তীতে অভিযোগের বিষয়ে এক তরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলেও চিঠিতে বলা হয়।
এ বিষয়ে জকসু ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘জবি উপাচার্যের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর খেলা দেখার ব্যবস্থা করে যে অন্যায় হয়েছে, এটার জন্য প্রক্টরের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি।’ তিনি বলেন, ‘আরো বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করছি বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের সহযোগিতা চেয়ে। এই দুই অপরাধের জন্য আমাদের যে অন্যায় হয়েছে, এটা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ করছি।’
এদিকে প্রক্টরের এ ধরনের ব্যাখ্যা তলবের চিঠি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তুলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রশাসন, বিশেষ করে প্রক্টরিয়াল বডির। সেখানে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তার দায় এককভাবে জকসু ভিপির ওপর চাপিয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া কতটা যৌক্তিক? তাদের মতে, প্রশাসনের অনুমতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও তদারকির বিষয়গুলোও সমানভাবে পর্যালোচনা করা উচিত।
সিয়াম নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ফেসবুকে লিখেন, ‘ক্যাম্পাসে বহিরাগত ঢুকেছে কি না, সেটি দেখার দায়িত্ব তো প্রক্টরিয়াল বডি ও নিরাপত্তা শাখার। কোনো অনুষ্ঠানে সমস্যা হলে তার দায় শুধু জকসু ভিপির ওপর চাপিয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা বলেই মনে হচ্ছে। কেননা জকসুর আয়োজনে দেখানো খেলা দল-মত নির্বিশেষে সবাই দেখেছে। তাই প্রশাসনেরও নিজেদের ভূমিকা নিয়ে আত্মসমালোচনা করা উচিত।’
চিঠির বিষয়ে জানতে জবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনকে কল করলে তার ব্যবহৃত নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।