০৮ জুলাই ২০২৬, ১২:৩২

গুচ্ছ ভর্তিতে ভোগান্তি কমাতে ইবি প্রশাসনের ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়  © সংগৃহীত

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছভুক্ত (জিএসটি) পদ্ধতিতে ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্নাতক প্রথম বর্ষের চূড়ান্ত ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে আজ বুধবার। ভর্তিতে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দপ্তরে দৌড়ঝাঁপ ও ভোগান্তি কমাতে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালু করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) চূড়ান্ত ভর্তি কার্যক্রম উপলক্ষে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানান জিএসটি গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের ভর্তি পরীক্ষার কোর কমিটির (২০২৫-২৬) সচিব ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক। 

তিনি জানান, গত ৬ জুলাই চূড়ান্ত ভর্তি উপলক্ষে প্রশাসনের এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের সভাপতিত্বে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এয়াকুব আলী, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল হক, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় সভাপতি, হল প্রভোস্ট, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, ছাত্র উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

এত দিন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সনাতন পদ্ধতিতে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হতো। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের প্রশাসন ভবন, অগ্রণী ব্যাংক, বিভাগীয় সভাপতি, অনুষদের ডিন, হল প্রভোস্টদের স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য প্রতিটি দপ্তরে ঘুরতে হতো। প্রথমবারের মতো ক্যাম্পাসে আসায় অনেকেই কোথায় কোন অফিস অবস্থিত তা জানতেন না। ফলে বারবার দৌড়াদৌড়ি করতে হতো। এ ছাড়া অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম না থাকায় অগ্রণী ব্যাংকের সামনে এসে লম্বা সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে টাকা জমা দিতে হতো। এতে একদিকে যেমন সময় নষ্ট হতো, তেমনি একাধিক দপ্তর ও ভবনে বারবার যাতায়াতের কারণে ভোগান্তিও বাড়তো শিক্ষার্থীদের।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম বোর্ড বাদে দেশজুড়ে শুরু হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা

তবে এবারে শিক্ষার্থীদের ভর্তিতে ভোগান্তি কমাতে পদক্ষেপ নিয়েছে ইবি প্রশাসন। এখন শিক্ষার্থীদের আর এক অফিস থেকে আরেক অফিসে ছুটতে হবে না। প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী ইউনিট ভিত্তিক স্ব স্ব ভবনে স্ব স্ব অনুষদের ডিন ও বিভাগীয় সভাপতিদের অবস্থান করতে হবে। একইসাথে সেখানে থাকবে অগ্রণী ব্যাংকের দুজন করে প্রতিনিধি যারা সেই ভবনেই টাকা জমা নিবে। এ ছাড়া হল প্রভোস্টদেরও নিজ নিজ হলে  না থেকে নতুন প্রশাসন ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা সব হলের প্রভোস্টকেই একজায়গায় পাচ্ছেন। এতে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে আশাবাদী ইবি প্রশাসন। 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল হক বলেন, ‘সব অনুষদের ভর্তি কার্যক্রম সহজ করতে নয়জন হল প্রভোস্টকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞান, ব্যবসায় প্রশাসন ও কলা অনুষদের জন্য পৃথক তিনটি ভবনে অনুষদের ডিনবৃন্দ অবস্থান করবেন। শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট ভবনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই ও প্রভোস্টের স্বাক্ষর নিয়ে সরাসরি একাডেমিক শাখায় জমা দিতে পারবেন। এতে তাদের অযথা বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরতে হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভর্তি কার্যক্রম ৮ জুলাই থেকে শুরু হয়ে ১৩ জুলাই পর্যন্ত চলবে। মাঝে সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় ব্যাংক বন্ধ থাকবে তবে শিক্ষার্থীরা অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবে। ১৩ জুলাই ভর্তি কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর উপাচার্যদের সভায় শূন্য আসনের সংখ্যা পর্যালোচনা করে পরবর্তী মাইগ্রেশন বা গণবিজ্ঞপ্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।