০৭ জুলাই ২০২৬, ১৬:৫৬

ছাত্র আন্দোলন চত্বরে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণে দাবি কুবি ছাত্রদলের

ফাইল ছবি  © সংগৃহীত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং ক্যাম্পাসসংলগ্ন এলাকায় নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) প্রশাসকের কাছে দুটি দাবি উত্থাপন করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শাখা ছাত্রদল।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপুর সঙ্গে নতুন আহ্বায়ক কমিটির সৌজন্য সাক্ষাৎকালে সংগঠনটির নেতারা এসব দাবি উপস্থাপন করেন।

জানা যায়, চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে প্রথম পুলিশি হামলায় রক্তাত হয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। ২০২৪ সালের ১১ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরেই ছাত্র-আন্দোলন চত্বরে (আনসার ক্যাম্পে) শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালানো হয়েছে। সেদিন ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে তাদেরও এলোপাতাড়িভাবে পিটিয়েছে। এ ছাড়া টিয়ারগ্যাস, লাঠিচার্জ ও গুলি ছুড়েছে তৎকালীন সরকারের পুলিশ বাহিনী। বৈষম্যমুক্ত ও ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের এই ত্যাগকে সম্মান জানাতে ১১ জুলাইকে ‘প্রতিরোধ দিবস’ ঘোষণা করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

শাখা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১১ জুলাই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যে স্থানে ফ্যাসিবাদবিরোধী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, সেই ঐতিহাসিক স্থান ‘ছাত্র আন্দোলন চত্বরে’ একটি ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণ করা। পাশাপাশি ক্যাম্পাসসংলগ্ন সড়ক, বিশেষ করে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন এলাকায় শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ল্যাম্পপোস্ট স্থাপনেরও দাবি জানানো হয়।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মো. আবুল বাশার বলেন, কুসিক প্রশাসক দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি আগামী ৫ আগস্টের আগেই ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় স্থানে ল্যাম্পপোস্ট স্থাপনের বিষয়েও ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন। আজকেই প্রতিনিধি দল এসে ল্যাম্পপোস্ট স্থাপনের জায়গাগুলো দেখে গিয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসসংলগ্ন বিভিন্ন মেস ও আবাসস্থলে বসবাস করেন। যেসব এলাকায় এখনো পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নেই সেই স্থানগুলো  সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করেছি।এরকম আরও স্থান থাকলে সেই তথ্য যদি শিক্ষার্থীরা অবহিত করেন তাহলে সেখানেও প্রয়োজনীয় ল্যাম্পপোস্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।