দ্রুতই জবির কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই গঠন করা হবে: উপাচার্য
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন দ্রুতই গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ্ উদ্দীন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সেক্টরে কর্মরত সাবেক শিক্ষার্থীদের একত্রিত করার কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রমে সাবেক শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে রসায়ন বিভাগের ২১তম ব্যাচের নবীনবরণ, কৃতি ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ শিক্ষা, গবেষণা ও একাডেমিক উৎকর্ষে জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। বিভাগের ধারাবাহিক সাফল্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে।
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, একটি সমৃদ্ধ শিক্ষা ও গবেষণাভিত্তিক বিভাগে অধ্যয়নের সুযোগ পাওয়া গর্বের বিষয়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হয়ে নিজেদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। জীবন, খাদ্য, ওষুধ, কৃষি, শিল্প, পরিবেশসহ দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই রসায়নের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মানবকল্যাণ ও টেকসই উন্নয়নে রসায়ন শিক্ষার অবদান অপরিসীম।
রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দ আলম, হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের হেড অব কোয়ালিটি অপারেশন ড. এবিএম মাহফুজ উল আলম এবং রেনেটা পিএলসির হেড অব কোয়ালিটি কন্ট্রোল মো. সিরাজুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, রসায়ন বিভাগ যেমন সাফল্যের ঐতিহ্য বহন করছে, তেমনি এর সামনে রয়েছে নতুন সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিকূলতা মোকাবিলার মধ্য দিয়েই নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করে এবং এই অভিযোজন ক্ষমতাই তাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবন ও উচ্চশিক্ষায় সফল হতে সহায়তা করে।
অনুষ্ঠানে বিভাগের অ্যালামনাইদের উদ্যোগে ২৫ জন কৃতি ও আর্থিকভাবে প্রয়োজনভিত্তিক শিক্ষার্থীর হাতে বৃত্তির অর্থ তুলে দেন উপাচার্য। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি, জাপানসহ বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়া বিভাগের আটজন শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
এ সময় রসায়ন বিভাগের ডিবেটিং ক্লাব আয়োজিত আন্তঃব্যাচ বিতর্ক প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ দলের সদস্যদের মধ্যেও পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অ্যালামনাই এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।